123 Main Street, New York, NY 10001

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার কিছুই ঘণ্টা পরেই পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলার প্রতিবাদে ইরান আবারো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। এই তথ্য নিশ্চিত করেছে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ।

এই সংকটের মূল কারণ হলো যুদ্ধবিরতির শর্তাবলী নিয়ে বিভ্রান্তি। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, যিনি এই শান্তি আলোচনা Mediator হিসেবে কাজ করছেন, দাবি করেছিলেন, ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে হওয়া চুক্তিতে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এতে হিজবুল্লাহর ওপর হামলাও বন্ধের কথা ছিল। তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ) এই দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে জানিয়েছে, তারা লেবাননে হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে বৃহত্তম বিমান হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলের মতে, এখনকার যুদ্ধবিরতি কেবলমাত্র ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, লেবাননের হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে।

লেবাননে এই ব্যাপক হামলার পরে ইরান কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। ফারস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার প্রথম দিকে সকাল পর্যন্ত only দুটি তেলবাহী ট্যাংকারকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু লেবাননে ইসরায়েলি হামলা শুরু হলে ইরান বাকি সব ট্যাংকারের চলাচল স্থগিত করে দেয়।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সঙ্গে জরুরি ফোনালাপে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের’ অভিযোগ আনেন। তেহরান সতর্ক করে দিয়ে জানিয়েছে, লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকলে তারা এই শান্তিচুক্তি থেকে সরে আসবে এবং পাল্টা আঘাতের জন্য প্রস্তুত।

অবশেষে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির মুখে ইরান মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়, যা বিশ্ববাজারে তেলের দাম কিছুটা কমিয়েছিল। কিন্তু প্রণালিটি আবার বন্ধ হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা ফিরে এসেছে। বর্তমানে কয়েক শ তেলবাহী ও গ্যাসবাহী ট্যাংকার ভারত মহাসাগরে আটকা পড়ে আছে, নতুন করে শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *