123 Main Street, New York, NY 10001

ইরানে ভূপাতিত এফ–১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমানের দু’জন মার্কিন ক্রুকে উদ্ধারের জন্য পরিচালিত ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান শেষে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব কিছু উচ্চপ্রযুক্তির বিমান ধ্বংস হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে প্রকাশ হয়েছে, এই অভিযানে মার্কিন সেনারা ইরানের মরুভূমিতে অস্থায়ী রানওয়েতে বিশেষ পরিবহন বিমান মোতায়েন করেছিল ক্রু উদ্ধারের জন্য। তবে, অবতরণের সময় যান্ত্রিক ত্রুটি বা নরম মাটিতে আটকে পড়ার কারণে পরিস্থিতির জটিলতা দেখা দেয়। এরপর, ইরানি বাহিনী চারপাশ থেকে ঘিরে ফেললে পরিস্থিতি আরও সংকটময় হয়ে ওঠে, যাতে আরও কয়েকটি মার্কিন বিমান পাঠানো হয়। শেষ পর্যন্ত, শত্রু হাতে পড়া এ বিমানগুলো ধ্বংস করা হয় বোমা হামলার মাধ্যমে, যেন এগুলো আর শত্রুর কাছে না পড়ে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ইসফাহান প্রদেশে এই ধ্বংসাবশেষের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে মনে করা হচ্ছে এগুলো হলো লকহিড মার্টিনের সি-১৩০ সিরিজের বিশেষ করে এমসি-১৩০জে কমান্ডো টু বিমানের। প্রতিটি এই বিমানের মূল্য ১০ কোটি ডলারের বেশি, এবং এগুলো সাধারণত শত্রুর অঞ্চলগুলোতে বিশেষ অভিযানে ব্যবহৃত হয়। ধ্বংসাবশেষে কিছু হেলিকপ্টার অংশও দেখা গেছে, যা অভিযানে ব্যবহার করা হয়েছে বলে ধারণা। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা শত্রুপক্ষের উড়োজাহাজ ধ্বংস করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র অপমানজনক পরাজয়ের মুখোমুখি হয়েছে। তবে মার্কিন পক্ষ থেকে এই ঘটনার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি রক্ষা করতে বিমান ধ্বংস করাটা একটি প্রচলিত কৌশল, যা অতীতেও দেখা গেছে। এর আগে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত করেছিলেন যে নিখোঁজ ও আহত ক্রু সদস্যকে সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি জানান, এই দুঃসাহসিক অভিযানে বেশ কয়েক ডজন বিমান ব্যবহার করে সেই ক্রুকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়। এই ঘটনার ফলে ইরান ও যুক্তরাষ্টের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে। অন্যদিকে, ইরানের সরকারি মুখপাত্র অভিযোগ করেছেন, এই উদ্ধার অভিযানের আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র ইউরেনিয়াম চুরি করে বসেছে। তিনি বলেন, রোববারের অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের পরমাণু স্থাপনা থেকে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হাতিয়ে নেওয়া। সোমবার সে বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই অভিযোগ তুলেছে। তারা বলছেন, মার্কিন অভিযানটি ছিল আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং দেশের সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী। তারা মনে করছে, পরমাণু বিষয়ক চাপ কমানোর জন্য এই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ ও উস্কানিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মার্কিন প্রশাসন বা পেন্টাগন থেকে এখনও কেউ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি। বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতেও এই অভিযোগ দু’ দেশের মধ্যে পরিস্থিতিকে আরও জটিলতার দিকে নিয়ে যাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বেগের কারণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *