123 Main Street, New York, NY 10001

২০২৬ সালের শুরুর তিন মাসে আন্তর্জাতিক বক্স অফিসের পরিসংখ্যানে এক নাটকীয়

পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দীর্ঘকাল ধরে বিশ্ব চলচ্চিত্রের বাজারে হলিউডের যে

একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল, তা এবার বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। চলতি বছর এখন

পর্যন্ত আয়ের দিক থেকে শীর্ষ ১০টি সিনেমার তালিকায় অর্ধেকের কাছাকাছি জায়গা দখল করে

নিয়েছে চীনা চলচ্চিত্র, যা একটি নতুন রেকর্ড। পাশাপাশি এই অভিজাত তালিকায়

প্রথমবারের মতো জায়গা করে নিয়েছে ভারতের বলিউড। হলিউডের বেশ কিছু বিগ বাজেটের

সিনেমা মুক্তি পেলেও দর্শক চাহিদার দৌড়ে তারা এশীয় সিনেমার কাছে পিছিয়ে পড়ছে। গত

শুক্রবার পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক চলচ্চিত্রের বাজার এখন বহুমুখী

মেরুকরণের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে আয়ের তালিকায় শীর্ষস্থানটি দখল করে আছে চীনের মান্দারিন ভাষার

সিনেমা ‘পেগাসাস-৩’। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই সিনেমাটি বক্স অফিসে

রীতিমতো তাণ্ডব চালাচ্ছে। গত এক মাসে সিনেমাটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৬০ কোটি ডলারে, যা

একে তালিকার এক নম্বর অবস্থানে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে। এর পরেই দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে

হলিউডের বহুল আলোচিত সায়েন্স ফিকশন ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’। রায়ান গসলিং অভিনীত এই

সিনেমাটি ২০ মার্চ মুক্তি পেয়ে স্বল্প সময়েই ৩৩ কোটি ডলার আয় করতে সক্ষম হয়েছে।

একজন বিজ্ঞান শিক্ষকের মহাকাশ জয় ও মানবজাতিকে রক্ষার রোমাঞ্চকর এই কাহিনী পশ্চিমা

দর্শকদের পাশাপাশি এশিয়াতেও বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

আয়ের এই তালিকায় তৃতীয় ও চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে হলিউডের অ্যানিমেল

অ্যাডভেঞ্চার ‘হোপারস’ এবং ঐতিহাসিক রোমান্টিক ড্রামা ‘ওয়েদারিং হাইটস’। ‘হোপারস’

৩০ কোটি ডলার এবং হিথক্লিফ ও ক্যাথরিনের চিরন্তন প্রেম নিয়ে নির্মিত ‘ওয়েদারিং

হাইটস’ ২৩ কোটি ডলার আয় করেছে। তালিকার পঞ্চম স্থানে রয়েছে জনপ্রিয় হরর

ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘স্ক্রিম-৭’, যার আয় ২০ কোটি ডলার। তবে তালিকার পরের অংশটি মূলত চীনা

সিনেমার দখলে। ষষ্ঠ স্থানে থাকা ‘ব্লেডস অব দ্য গার্ডিয়ানস’ ১৯ দশমিক ৮ কোটি ডলার

এবং সপ্তম স্থানে থাকা স্পাই-থ্রিলার ‘স্কেয়ার আউট’ ১৮ দশমিক ৬ কোটি ডলার সংগ্রহ

করেছে। এছাড়া একটি স্বপ্নবাজ ছাগলের গল্প নিয়ে নির্মিত অ্যানিমেশন সিনেমা ‘গোট’ ১৮

কোটি ডলার আয় করে তালিকার অষ্টম স্থান দখল করেছে।

এবারের আন্তর্জাতিক বক্স অফিসের সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বলিউড সিনেমা

‘ধুরন্ধর ২’। সাধারণত বিশ্বসেরা ১০-এর তালিকায় ভারতীয় সিনেমার উপস্থিতি খুব একটা

দেখা যায় না, তবে রণবীর সিং অভিনীত এই স্পাই-থ্রিলারটি সেই প্রথা ভেঙে দিয়েছে। গত

১৯ মার্চ মুক্তির পর থেকে সিনেমাটি আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ইতিমধ্যে ১৫ কোটি ডলারের

বেশি আয় করে তালিকার নবম স্থানে অবস্থান করছে। তালিকার সর্বশেষ বা দশম স্থানে রয়েছে

চীনের জনপ্রিয় অ্যানিমেশন ‘বুনি বিয়ার্স: দ্য হিডেন প্রোটেক্টর’, যার আয় ১৪ কোটি

ডলার। এই পরিসংখ্যানগুলো স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, বিশ্ব চলচ্চিত্রের বাজারে এখন কেবল

ভাষা বা অঞ্চলের সীমানা মুখ্য নয়, বরং শক্তিশালী গল্প আর আধুনিক নির্মাণশৈলীই

দর্শকদের প্রেক্ষাগৃহমুখী করছে। হলিউডের বাইরে চীন ও ভারতের এই উত্থান বিশ্ব সিনেমা

বাণিজ্যের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *