123 Main Street, New York, NY 10001

ব্রাজিলের প্রখ্যাত মিডফিল্ডার অস্কার ডস সান্তোস মাত্র ৩৪ বছরের যুবক বয়সে পেশাদার ফুটবল থেকে চিরতরে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন, তার মূল কারণ হলো হৃদরোগজনিত মারাত্মক জটিলতা। এই সিদ্ধান্তের পেছনে ছিল তাঁর শারীরিক অসুস্থতা, বিশেষ করে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ব্রাজিলের শীর্ষ ক্লাব সাও পাওলো এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, অস্কার এখন থেকে ফুটবল মাঠে আর দেখা যাবে না। এভাবে আধুনিক ফুটবলের একজন অন্যতম সৃজনশীল খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ার অকালেই শেষ হয়ে গেল।

নির্ধারিত এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে গত বছর নভেম্বরের ঘটনা। সাও পাওলোর বাররা ফুন্ডা ট্রেনিং সেন্টারে ফিটনেস পরীক্ষা দেওয়ার সময় তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। চিকিৎসকদের মতে, তিনি ভাসোভাগাল সিনকোপে আক্রান্ত হয়েছিলেন, যা আকস্মিকভাবে মানুষের মধ্যে তীব্র আবেগ বা শারীরিক চাপের কারণে মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ কমে গিয়ে মানুষকে সংজ্ঞাহীন করে দেয়। এই ঘটনায় তার জন্য অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন পড়েছিল, এবং তিনি গত পাঁচ মাস ধরে মাঠের বাইরে ছিলেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ ও পর্যবেক্ষণের পর বিষয়টি স্পষ্ট হয় যে, উচ্চঝুঁকিপূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে ফিরে যাওয়া তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

যদিও তার শৈশবের ক্লাব সাও পাওলোসহ দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি ছিল ২০২৭ সাল পর্যন্ত, কিন্তু জীবনের বাস্তবতা মেনে এতদিনের চুক্তি তিনি বাতিল করছেন। অবসরের ঘোষণা দিয়ে অস্কার জানান, ক্লাবের জন্য তিনি আরও অনেক কিছু করতে চেয়েছিলেন। তবে শারীরিক সক্ষমতার ওপর তাঁর পূর্ণ বিশ্বাস থাকলেও ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে এই কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হলো। মাঠের খেলোয়াড় হিসেবে তাঁর প্রতিভা দিয়ে ফুটবল বিশ্বে সুখ্যাতি অর্জন করেছেন, ভবিষ্যতে তার সাথে থাকবেন ফুটবল প্রেমীরা এবং তিনি কখনোই তাঁর প্রিয় ক্লাবের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবেন না বলে প্রতিজ্ঞা করেছেন।

অস্কারের ক্যারিয়ার ছিল অগণিত সাফল্যে পরিপূর্ণ। ২০১২ সালে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের চেলসিতে যোগ দিয়ে তিনি বিশ্বমঞ্চে নিজের পরিচিতি তৈরি করেন। স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে থাকাকালীন তিনি দুটি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা এবং একটি ইউরোপা লিগ জেতার গৌরব অর্জন করেন। এরপর ২০১৬-১৭ মৌসুমের মাঝপথে প্রায় ৭৩ মিলিয়ন ডলারের ট্রান্সফার ফি দিয়ে চীনের সাংহাই পোর্টে যোগ দেন, যেখানে তিনি তিনটি সুকেজি লিগ শিরোপা জয় করেন। এশিয়া অঞ্চলে তিনি এক জনপ্রিয় এবং প্রভাবশালী খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। ২০২৪ সালের শেষভাগে ফিরে আসেন ফ্রি এজেন্ট হিসেবে সাও পাওলোতে।

আন্তর্জাতিক পর্যায়েও অস্কার ব্রাজিলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। ৪৮টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশ নিয়ে ১২টি গোল করেছেন। বিশেষ করে ২০১৪ বিশ্বকাপে তার বীরত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ি দক্ষতা চোখে পড়ার মতো। যদিও ২০১৫ সালের পর থেকে জাতীয় দলে আর তিনি দেখা যায়নি, তবে তার মধ্যমাঠের নিয়ন্ত্রণ ও কৌশল ভক্তদের স্মৃতি থেকে হারিয়ে যাবে না। মাত্র ৩৪ বছর বয়সে এমন একজন প্রতিভাবান ফুটবলারের অবসর নেওয়া নিঃসন্দেহে বিশ্ব ফুটবলের জন্য একটা বড় ক্ষতি। তাঁর সুস্বাস্থ্য ও সুন্দর ভবিষ্যতের জন্যই সংশ্লিষ্ট ও তাঁর অনুগত ভক্তরা সবাই শুভকামনা জানাচ্ছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *