123 Main Street, New York, NY 10001

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বিশ্বজুড়ে অস্থিরতার কারণে ত্রিমুখী অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে

পড়েছে দেশ। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ডলার সংকটের কারণে

আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অর্থনীতি চাপের মধ্যে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সরকার কর

ফাঁকি বন্ধ ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে নজর দিচ্ছে। পাশাপাশি ঋণনির্ভর অর্থনীতি

থেকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরের চেষ্টা করছে। সরকারের লক্ষ্য অর্থনীতিকে

উদ্ধার করা এবং একই সাথে নির্বাচনি ইশতেহারে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো

রক্ষা করা। তবে সরকার টাকা সরকার নতুন করে টাকা ছাপিয়ে বাজার সচল করার পক্ষে নয় বলে

সাফ জানিয়ে দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

জ্বালানি ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি

তেলের দাম বাড়লে বাংলাদেশ তেলশূন্যতার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এতে উৎপাদন খরচ ও পরিবহন

ব্যয় বেড়ে গিয়ে মূল্যস্ফীতি আরও উসকে দিতে পারে।

অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও ডলার সংকট: বর্তমান সামষ্টিক অর্থনৈতিক সংকট, যেমন—ডলার সংকট

ও টাকার অবমূল্যায়ন, অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ফলে আমদানিনির্ভর পণ্যের

দাম বাড়ছে।

রেমিট্যান্স ও রপ্তানিতে ঝুঁকি: মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ দেশে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায়

সেখানকার প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) এবং রপ্তানিবাণিজ্য ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

এ বিষয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী স্পষ্ট বলেছেন, সরকার

ঋণনির্ভর অর্থনীতির চেয়ে বিনিয়োগ নির্ভর অর্থনীতির কথা ভাবছে। তবে সরকার নতুন করে

টাকা ছাপাতে আগ্রহী নয়। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের

প্রক্রিয়াটি বর্তমানে চলমান রয়েছে। উত্তরণের সময়সীমা আরও ৩ বছর পেছানোর জন্য

প্রধানমন্ত্রী একটি চিঠি পাঠাবেন, যা পরবর্তীতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে (জেনারেল

অ্যাসেমবলি) যাবে। এই বিষয়টি বর্তমানে পর্যালোচনাধীন এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া

পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

সাংবাদিকদের মন্ত্রী বলেন, আগামী বাজেটে রাজস্ব আহরণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বাজেটে মূলত নারী উদ্যোক্তা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের

বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি জনবান্ধব বাজেট প্রণয়নের কাজ চলছে। আসন্ন বাজেটে

রাজস্ব আহরণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এবারের বাজেটের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো-

বঞ্চিত মানুষদের অগ্রাধিকার দেওয়া।

বিনিয়োগ ও নীতিমালার স্থিতিশীলতা নিয়ে তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে

সরকার নীতিমালার স্থিতিশীলতার ওপর জোর দিচ্ছে। সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ

করছে, যাতে বিনিয়োগকারীরা স্বস্তির সাথে বিনিয়োগ করতে পারেন। এ ছাড়া পুঁজিবাজার ও

আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং বড় ধরনের ডিরেগুলেশন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সামাজিক নিরাপত্তা ও বঞ্চিতদের অগ্রাধিকার বিষয়ে বলেন, বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে

সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের ওপর বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক

কার্ডের মতো উদ্যোগগুলোর মাধ্যমে এই বঞ্চিত মানুষদের সুরক্ষা দেওয়ার কাজ চলছে।

রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, রপ্তানি খাতে শুধু তৈরি

পোশাক বা গার্মেন্টসের ওপর নির্ভরশীল না থেকে খাতটিকে বহুমুখী করার পরিকল্পনা নেওয়া

হয়েছে। অন্যান্য সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাতকেও গার্মেন্টসের মতো বন্ডেড ওয়্যারহাউস এবং

ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি সুবিধা দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।

এ ছাড়া দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে জাপান ও জার্মানির রাষ্ট্রদূতের

সাথে আলোচনা চলছে, বিশেষ করে এই সংকটের সময়ে তাদের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

পুঁজিবাজার সম্পর্কে তিনি বলেন, আগে ঘন ঘন নীতিমালা পরিবর্তনের ফলে বিনিয়োগকারীদের

কাছে ভুল বার্তা যেত। বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে এবং আর্থিক ও পুঁজিবাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে

সরকার সিরিয়াস ডিরেগুলেশন বা নিয়মকানুন শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বঞ্চিতদের দিয়ে বাজেট শুরু করা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, আগে অনেক সময় শিল্প বা উৎপাদন

খাতের ওপর বেশি জোর দিতে গিয়ে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষেরা বাজেটের সুফল থেকে বাদ

পড়ে যেত। এবার সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, বঞ্চিত মানুষের পাওনা ও প্রয়োজনীয়তাকে

অগ্রাধিকার দিয়ে বাজেট প্রণয়ন শুরু করা হবে। বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে এবং আর্থিক ও

পুঁজিবাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকার সিরিয়াস ডিরেগুলেশন বা নিয়মকানুন শিথিল করার

সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মাধ্যমে নির্বাচনের অপেক্ষায় থাকা বিলিয়ন ডলারের বিদেশি

বিনিয়োগ দেশে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *