123 Main Street, New York, NY 10001

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মাঝে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে আটকে পড়া বাংলাদেশের ছয়টি বাণিজ্যিক জাহাজ পার হওয়ার অনুমতি দিয়েছে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল। বুধবার (১ এপ্রিল) ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহীমি জাহানাবাদী এই তথ্য নিশ্চিত করেন এক সংবাদ সম্মেলনে। তিনি জানান, বাংলাদেশের সরকারের অনুরোধে তেহরান এই সিদ্ধান্ত নিলো এবং জাহাজগুলোকে নিরাপদে যাওয়ার জন্য ইরান সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেবে।

সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রদূত বলেন, শুরুতে জাহাজগুলোর কারিগরি স্পেসিফিকেশন বা নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া জটিল ছিল, যার কারণে শনাক্তে কিছু সমস্যা হয়েছিল। তবে গত সপ্তাহে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহের পর এখন এই জাহাজগুলো শনাক্তকরণ ও চলাচলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আরও তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের মানুষের জন্য সরবরাহ সংকটের পাশাপাশি জ্বালানি সচিবালয়ে পাঠানো তেহরানের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের লোকজনের জন্য জ্বালানি তেলের লাইনে দীর্ঘ অপেক্ষা চালিয়ে আসছে। ইরান মানবিক কারণে সব সময় বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলেও আশ্বাস দেন।

মানবিক সহায়তা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, সম্প্রতি ইরানে আটকা পড়া ১৮০ জন বাংলাদেশি নিরাপদে দেশে ফেরত আনতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অনেকেরই বৈধ পাসপোর্ট বা ভিসা ছিল না এবং তারা অবৈধভাবে ইরানে প্রবেশ করেছিলেন। তবুও শান্তিপূর্ণভাবে, বিনা হয়রানি বা গ্রেপ্তার করে, সংহতভাবে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে। এ জন্য বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ইরানকে ধন্যবাদ জানিয়ে একটি চিঠি দিয়েছেন। তবে চলমান যুদ্ধের কারণে তেহরান কিছুটা মর্মাহত হওয়ার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন।

হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণে ইরান কঠোর অবস্থান গ্রহণ করছে বলে জানানো হয়। জলিল রহীমি বলেন, যুদ্ধের পর প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে নতুন নিয়ম হবে। ‘ইনোসেন্ট প্যাসেজ’ বা নির্দোষ চলাচলের নিয়ম অনুসারে, ইরানের অনুমতি ছাড়া কোন জাহাজ এই পথে চলতে পারবে না। ইতিমধ্যেই ইরানের পার্লামেন্ট ও সরকার প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পথে রয়েছে। ইরান এই অঞ্চলে নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য দৃঢ়বদ্ধ বলে তিনি জানান।

সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে রাষ্ট্রদূত বলেন, এই যুদ্ধ কেবল ইরানের বিরুদ্ধে নয়, বরং এটি ইসলামী সভ্যতা ও মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফার শান্তি প্রস্তাবকে ওয়াশিংটনের একপক্ষীয় ‘চাওয়া-পাওয়া তালিকা’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং স্পষ্ট বলেন, এ নিয়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনও আলোচনা হয়নি। তিনি দাবি করেন, যখন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্রের সঙ্কটে পড়ছে, তখন তারা শান্তির কথা বলে। তবে ইরান যুদ্ধের পক্ষে নয়, বরং এমন শান্তি চায় যা এই অঞ্চলে ইরানের অধিকার রক্ষা করবে এবং স্থায়ী স্থিতিশীলতা আনবে। সবশেষে, তিনি আশাবাদ ব্যাক্ত করে বলেন, এই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতেও বাংলাদেশের মানুষ ইতিবাচক দৃষ্টিতে বিষয়গুলো উপলব্ধি করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *