123 Main Street, New York, NY 10001

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে

তৈরি হওয়া তীব্র জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া

সরকার। দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং সাধারণ

মানুষের ওপর আর্থিক চাপ কমাতে পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর আরোপিত কর অর্ধেক করার ঘোষণা

দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবেনিস। সোমবার (৩০ মার্চ) এক সরকারি

ভাষণে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রী আলবেনিস জানিয়েছেন, আগামী ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত এই বিশেষ কর

ছাড় কার্যকর থাকবে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম প্রায়

২৬.৩ অস্ট্রেলিয়ান সেন্ট কমে আসবে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এর ফলে ৬৫ লিটার

ধারণক্ষমতাসম্পন্ন একটি ফুয়েল ট্যাংক পূর্ণ করতে সাধারণ গ্রাহকদের প্রায় ১৯

অস্ট্রেলিয়ান ডলার সাশ্রয় হবে। সাধারণ যানবাহনের পাশাপাশি পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত

ভারী যানবাহনের ওপর আরোপিত যাবতীয় চার্জও আগামী তিন মাসের জন্য স্থগিত রাখার

নির্দেশ দিয়েছে সরকার, যা নিত্যপণ্যের পরিবহন খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করবে বলে

আশা করা হচ্ছে।

তবে সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও এটি সাধারণ মানুষের জন্য কতটা স্বস্তিদায়ক

হবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে দেশটির ন্যাশনাল রোডস অ্যান্ড মোটরিস্টস

অ্যাসোসিয়েশন (এনআরএমএ)। সংগঠনের মুখপাত্র পিটার খৌরি এক বিবৃতিতে মন্তব্য করেছেন

যে, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে

যাওয়ায় ইতিমধ্যে প্রতি লিটার তেলের দাম প্রায় ৩৩ সেন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সরকারের

এই কর হ্রাসের সুফল বর্তমান উচ্চমূল্যের কারণে সাধারণ ভোক্তাদের কাছে খুব একটা

দৃশ্যমান নাও হতে পারে। তাঁর মতে, তেলের দাম বাড়ার প্রধান কারণ সরকারের কর নয়, বরং

আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচা তেলের আকাশচুম্বী মূল্য।

জ্বালানি পরিস্থিতির নাজুক অবস্থা সত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়া সরকার এখনো নাগরিকদের জন্য

জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো বাধ্যতামূলক বিধিনিষেধ বা রেশনিং ব্যবস্থা জারি

করেনি। তবে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী সাধারণ জনগণকে অপ্রয়োজনীয়

জ্বালানি ব্যবহার এড়িয়ে চলতে এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে সাশ্রয়ী হওয়ার জন্য বিশেষ

পরামর্শ দিয়েছেন। সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান সংকটের মাঝেও দেশটির জরুরি

মজুত বা স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভে ৩৯ দিনের পেট্রোল এবং প্রায় ৩০ দিনের ডিজেল ও জেট

ফুয়েলের সরবরাহ নিশ্চিত রয়েছে।

আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দ্রুত প্রশমিত না

হলে অস্ট্রেলিয়ার মতো উন্নত দেশগুলোকেও দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি অনিশ্চয়তার মুখোমুখি

হতে হতে পারে। আপাতত তিন মাসের এই কর ছাড়ের মাধ্যমে সরকার অভ্যন্তরীণ বাজার

পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছে। তবে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক না

হওয়া পর্যন্ত জ্বালানি তেলের বাজার স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। সব মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়ার এই পদক্ষেপ বর্তমান বিশ্ব অর্থনৈতিক

অস্থিরতারই একটি প্রতিফলন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *