123 Main Street, New York, NY 10001

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে নতুন করে একটি বড় ধরনের কর ব্যবস্থা পরিবর্তনের উদ্যোগ নিচ্ছে, যেখানে করদাতারা পুরো বছরজুড়ে তিন মাসের ভিত্তিতে কর রিটার্ন দাখিল করবেন। এই পদক্ষেপটি দেশের কর ব্যবস্থায় একটি ব্যাপক সংস্কারের অংশ হিসেবে ভাবা হচ্ছে, যার মাধ্যমে রাজস্ব সংগৃহীত হবে আধুনিক ও কার্যকরী প্রক্রিয়ায়, পাশাপাশি দেশের কল্যাণে এগিয়ে নেওয়া হবে।

রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক প্রাক-বাজেট বৈঠকে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান এই নতুন পরিকল্পনার ঘোষণা দেন। বৈঠকে তিনি বলেন, ‘‘আমরা বছরজুড়ে বর্ষাকালীন এই নতুন পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা করছি। এর মধ্যে থাকবে প্রত্যেক বছর চারটি কোয়ার্টারে কর রিটার্ন দাখিলের ব্যবস্থা। প্রথম কোয়ার্টারে যারা রিটার্ন করবেন, তাদের জন্য রয়েছে ইনসেন্টিভ বা ছাড়, অর্থাৎ তারা কিছু রিবেট পাবেন। দ্বিতীয় কোয়ার্টারে যারা রিটার্ন করবেন, তারা নিয়মিত থাকবেন। তৃতীয় কোয়ার্টারে যারা রিটার্ন করবেন, তারা কিছুটা বেশি টাকা দেবেন, আর চতুর্থ কোয়ার্টারে যারা করবেন, তাঁরা আরও বেশি ট্যাক্স দেবে। ফলে করদাতারা নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী বেশি বা কম ট্যাক্স দিয়ে রিটার্ন দাখिलের সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন, যা করদাতাদের উৎসাহিত করবে এবং কর সংগ্রহের আধুনিকায়ন ঘটবে। একই নিয়মটি কর্পোরেট করের ক্ষেত্রেও প্রভাবিত হবে।

এনবিআর চেয়ারম্যান আরও জানান, এ পরিবর্তনের অংশ হিসেবে সম্পদ কর আবার চালু করা ও উত্তরাধিকার করের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘‘বর্তমানে রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত খুবই কম, যা আমাদের সামাজিক নিরাপত্তা, অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় মেটাতে অপ্রতুল।’’

কর ফাঁকিরোধে প্রযুক্তির ব্যবহারে জোর দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যাংকিং সংযোগের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান আরও আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় করা হবে। এখন যেখানে করদাতাদের ব্যাংক থেকে বিভিন্ন ধরনের সার্টিফিকেট হাতে হাতে নিতে হয়, সেখানে অনলাইনে লগইন করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সব তথ্য পাওয়ার ব্যবস্থা তৈরি হচ্ছে। যেন করদাতারা নিজের ট্যাক্স, আয়, ব্যাংক ব্যালেন্স ও অন্যান্য রেকর্ডগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেখতে পান, যা সময় এবং পরিশ্রম কমাবে।

এনবিআর বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলোর সঙ্গে তথ্যের সমন্বয় করে সম্পত্তির মালিকানা ও ভাড়া আয় শনাক্ত করছে। আরও বলা হয়, অতিরিক্ত তথ্য সরবরাহের প্রবণতা কমাতে আইবাস (IBAS) সিস্টেম ও ট্রেজারি রেকর্ডের মাধ্যমে বাস্তব তথ্য প্রকাশের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ভ্যাট খাতেও বড় ধরনের অপ্রতুলতা থাকায় সরকারি সূত্র জানায়, দেশের আনুমানিক ৮০ লাখের বেশি ভ্যাটদাতা থাকা উচিত, যেখানে নিবন্ধিত ভ্যাটদাতা মাত্র ৮ লাখ। এই ব্যবধান কমানোর জন্য নিবন্ধনের আওতা বৃদ্ধি করা হবে।

বর্তমানে সম্পন্ন অগ্রগতির দিকটি তুলে ধরে তিনি জানান, ইতোমধ্যে ৪২ লাখ করদাতা অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করেছেন। তার সাথে আরও ২০ হাজার ই-অ্যাপ্লিকেশন ৯০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত রাজস্ব আদায় আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে, যা এই নতুন টাস্কফোর্সের কার্যক্রমের ফল বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *