123 Main Street, New York, NY 10001

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার

তথাকথিত ‘শান্তি আলোচনা’ নিয়ে নতুন নাটকীয়তা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট

ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে

নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করছে এবং ইরান এই আলোচনাকে গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে মার্কিন

প্রেসিডেন্টের এই দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়ে কড়া বিদ্রুপ ছুড়ে দিয়েছে ইরান।

দেশটির সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা বিষয়টিকে মার্কিন প্রশাসনের

‘নিজেদের সঙ্গে নিজেরা কথা বলা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তেহরানের এই অনমনীয় অবস্থান

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের কালো মেঘ আরও ঘনীভূত করছে।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল যে, সংঘাত

নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ১৫ দফার একটি বিস্তারিত শান্তি পরিকল্পনা মধ্যস্থতাকারীদের

মাধ্যমে তেহরানে পাঠিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও এক বক্তব্যে দাবি করেছিলেন যে,

ওয়াশিংটন বেশ কিছুদিন ধরে ইরানের সঙ্গে আলোচনা করছে এবং এবার ইরান এই প্রক্রিয়াকে

ইতিবাচকভাবে দেখছে। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর

যৌথ কমান্ড ‘খাতাম আল-আম্বিয়া’ সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টারসের মুখপাত্র ইব্রাহিম

জুলফাকারি এই দাবিকে স্রেফ কল্পনাপ্রসূত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি মার্কিন প্রশাসনকে

কটাক্ষ করে প্রশ্ন তুলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক

দ্বন্দ্ব কি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তারা নিজেরাই নিজেদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে?

মুখপাত্র জুলফাকারি আরও কঠোর ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, আদর্শিক ও নৈতিক অবস্থানের

কারণে ইরানের মতো বিপ্লবী শক্তির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মতো শক্তির কোনো দিনই কোনো

সমঝোতা হওয়া সম্ভব নয়। তাঁর মতে, মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবিগুলো স্রেফ জনমতকে

বিভ্রান্ত করার একটি কৌশল মাত্র। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, ইরান কোনো

চাপের মুখে নতি স্বীকার করে ওয়াশিংটনের দেওয়া একপাক্ষিক শর্তে আলোচনায় বসবে না।

মার্কিন সরকারের এই তথাকথিত কূটনৈতিক তৎপরতাকে তিনি কেবল সময়ের অপচয় এবং অভ্যন্তরীণ

বিভ্রান্তির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক

জ্বালানি বাজার নিয়েও বিশেষ হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। জুলফাকারি দাবি করেছেন, যতদিন

পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র এই সত্যটি স্বীকার না করবে যে এ অঞ্চলের প্রকৃত নিরাপত্তা ও

স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার সক্ষমতা কেবল ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর হাতেই রয়েছে, ততদিন

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দামে স্থিতিশীলতা ফিরবে না। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন,

তেহরানের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অবস্থানকে শ্রদ্ধা না জানিয়ে মার্কিন বিনিয়োগ কিংবা

যুদ্ধ-পূর্ববর্তী স্বাভাবিক অর্থনৈতিক অবস্থা ফিরে পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

ইরানের এই অনড় অবস্থান ওয়াশিংটনের প্রস্তাবিত ১৫ দফার শান্তি পরিকল্পনার

বাস্তবায়নকে এখন বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। সব মিলিয়ে তেহরান ও

ওয়াশিংটনের মধ্যেকার এই স্নায়ুযুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *