123 Main Street, New York, NY 10001

সর্বশেষ বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য চুক্তির প্রভাবের কারণে চলতি অর্থবছরেই সরকার প্রায় ১,৩২৭ কোটি টাকা রাজস্ব হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছে বলে জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। আজ মঙ্গলবার ঢাকায় ব্র্যাক ইনসিটিউটের সম্মেলন কেন্দ্রে ‘২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট সুপারিশমালা’ শীর্ষক এক আলোচনায় সংস্থাটি বিষয়টি তুলে ধরেন। সিপিডি মনে করে, এই চুক্তির মাধ্যমে কেবল সরাসরি রাজস্ব হারানো নয়, বরং ভবিষ্যতে দেশের বাণিজ্য সংক্রান্ত আইনি ও অর্থনৈতিক বাধ্যবাধকতাগুলোর সৃষ্টি হতে পারে যা দেশের জন্য এক নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেছিলেন, অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেডের আওতায় বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা ৪,৫০০ পণ্যকে শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে ১০ বছরের মধ্যে এতে আরও ২,২১০ পণ্য যুক্ত হতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই একতরফা সুবিধা যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া WTO নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এর ফলে যদি অন্যান্য দেশকেও একই সুবিধা দিতে বাধ্য হয়, তবে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব দেশের অর্থনীতির উপর বিরূপ পড়তে পারে। এছাড়াও, নির্দিষ্ট কিছু পণ্য যুক্তরাষ্ট্র থেকেই কিনতে বাধ্য থাকায় সরকারের ব্যয় বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

অর্থনৈতিক পরিস্থিতির রূপরেখা বিশ্লেষণ করে ড. ফাহমিদা জানিয়েছেন, সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন অনেকটাই দুর্বল হয়ে গেছে। জানুয়ারি পর্যন্ত এডিপির বাস্তবায়নের হার ছিল মাত্র ২০.৩%, যা গত ১৫ বছরের最低। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজস্ব আদায়ও খুবই কম, যেখানে লক্ষ্য ছিল ৩৪.৫%, সেখানে আদায় ছয় মাসে মাত্র ১২.৯%। এরই ফলশ্রুতিতে এই অর্থবছরে রাজস্ব ঘাটতি ইতিমধ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছে গেছে। রাজস্ব কম হওয়ায় সরকারকে ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হচ্ছে, যা ডিসেম্বরের মধ্যে ৫৯,৬৫৫ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। bunun ফলে ব্যাংক ও বেসরকারি খাতের ঋণের চাপ বেড়ে আর্থিক ঝুঁকি সৃষ্টি হচ্ছে।

বিদেশি বাণিজ্যের দিক থেকেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সিপিডি। জানিয়েছেন, এই অর্থবছরে রপ্তানি ৩.২% কমে গেছে, অথচ আমদানি বেড়েছে ৩.৯%। এর সাথে যোগ হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা, যেহেতু বাংলাদেশের জ্বালানি প্রয়োজনের বেশিরভাগই মধ্যপ্রাচ্য থেকে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সংকট ও ব্যয় বাড়লে সম্ভাব্য মূল্যস্ফীতি ৮% ছাড়িয়ে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রফেসর মোস্তাফিজুর রহমান বলছেন, তৃতীয় কোনো দেশের ওপর নির্ভরতা বা অন্য দেশের কাছ থেকে কিনতে বাধ্য হওয়া কোনও রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের জন্য ক্ষতিকারক। পাশাপাশি, বাংলাদেশের সামনে এই চুক্তিটি পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ উন্মোচিত হয়েছে, বিশেষ করে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশনার প্রেক্ষিতে।

সংস্থাটি আরও বলেছে, আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তুতিতে সরকারকে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য থেকে সরে আসার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহারে যেখানে কর-জিডিপি অনুপাত ১৫% করার লক্ষ্য ছিল, সেখানে বর্তমানে তা মাত্র ৬.৮%। এই বড় ব্যবধান পূরণের জন্য কার্যকর দীর্ঘমেয়াদী সংস্কার এবং রাজস্ব ব্যবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন জরুরি। একইসঙ্গে, অপচয় ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে অবকাঠামোগত বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *