123 Main Street, New York, NY 10001

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তীব্র সামরিক উত্তেজনা এবং এই অঞ্চলের আকাশপথের নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বিমানের চলাচলে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। দেশের রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, সোমবার (৯ মার্চ) এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে, পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় চারটি গুরুত্বপূর্ণ রুটে ফ্লাইট আপাতত অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। এ ছাড়াও, আরও দুটি রুটে সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

বিমানের ঘোষণা অনুযায়ী, কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বেশ কিছু গন্তব্যে এখন থেকে বিমান চলাচল বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে দোহা, শারজাহ, কুয়েত ও দাম্মাম রুটে বিশেষ নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত ফ্লাইট বাতিল থাকবে। অন্যদিকে, দুবাই ও আবুধাবি রুটে আগামী ১০ মার্চ পর্যন্ত সব ফ্লাইট বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আকাশপথে সতর্কতা অবলম্বন এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা বিবেচনায় এসব কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনায় ব্যাপক অসুবিধা সৃষ্টি হয়েছে। ইরান, ইরাক, বাহরাইন ও জর্ডান সংলগ্ন আকাশসীমা ব্যবহার নিয়ে সতর্কতা জারি থাকায় ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আন্তর্জাতিক বিমান চালাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, সোমবারের মধ্যে শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে প্রায় ৩০০ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে বিভিন্ন এয়ারলাইনস। এর মধ্যে রবিবার অন্তত ২৬টি গুরুত্বপূর্ণ ফ্লাইট বাতিল হয়।

নামকরা অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থার ফ্লাইটও এই পরিস্থিতির শিকার, এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো এয়ার অ্যারাবিয়া (৬টি), ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস (৫টি), কাতার এবং এমিরেটس (৪টি করে), ও জাজিরা এয়ারওয়েজ (৪টি)। এছাড়া সৌদি অ্যারাবিয়ান, কুয়েত এয়ারওয়েজ, গালফ এয়ারসহ অন্যান্য সংস্থাগুলোরাও তাদের সিডিউল অনুযায়ী ফ্লাইট চালাতে পারছে না।

এই সংকট গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১ মার্চ থেকে ৫ মার্চ পর্যন্ত গড়ে প্রতিদিন ৩৫ থেকে ৪০টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। আকাশপথে এই অচলাবস্থার কারণে হাজার হাজার রেমিট্যান্স যাত্রী ও প্রবাসী কর্মী বিমানবন্দরে আটকা পড়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থা দ্রুত প্রশমিত না হয়, তবে এই অস্থিরতা ও ক্ষতি আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। বর্তমানে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এয়ারলাইনস পরিচালনায় এক অনதி পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *