123 Main Street, New York, NY 10001

অন্তর্জাতিক বাজারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বৃদ্ধি পাওয়া সামরিক উত্তেজনা শুরু থেকেই তেলের দামে জোরালো প্রভাব ফেলছে। সম্প্রতি এই উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেল এখন ৭১.২০ ডলার, যা গত সাত মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। একইভাবে ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম উঠেছে ৬৬.০১ ডলারে, যা গত আগস্টের পর সর্বোচ্চ পর্যায়। বাজার বিশ্লেষকদের মত, এই দামে বৃদ্ধি মূলত পরিস্থিতির অনিশ্চয়তা ও সম্ভাব্য চাপের কারণে। বিনিয়োগকারীরা সতর্ক থাকতে হচ্ছে কারণ ভবিষ্যতে পরিস্থিতি যদি আরও জটিল হয়ে ওঠে, তবে সরবরাহে বাধা আসার আশঙ্কা রয়েছে।

অতীতে জুলাই মাসের পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সর্বোচ্চ পর্যায় পৌঁছেছে এবং গত শুক্রবার থেকে প্রতিদিনই দাম বেড়েই চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের কারণেও পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই উত্তেজনা দীর্ঘমেয়াদি হয়, তাহলে ওপেকের তৃতীয় বৃহত্তম উৎপাদক ইরানসহ অন্য মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকেও তেলের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও চড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করছে বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্লেষকদের মতে, এই অস্থিরতার কারণে বাজারে ঝুঁকি প্রিমিয়াম যোগ হয়েছে। এ অবস্থায় যেকোনো নতুন ঘটনা বা সংঘর্ষের জন্য বাজার খুবই সংবেদনশীল হয়ে উঠছে। আগামী বৃহস্পতিবার জেনেভায় মার্কিন প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে ইরানের প্রতিনিধিদলের তৃতীয় দফার আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, কূটনীতির মাধ্যমে সমঝোতা সম্ভব হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, চুক্তির পথে না হাঁটার ফলাফল ভয়ংকর হতে পারে, আবার ইরানও কি যুক্তরাষ্ট্রের দাবিনুযায়ী ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করবে, তা এখনও পরিষ্কার নয়।

অন্যদিকে, ইরান চীনের কাছ থেকে আধুনিক অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্র কিনতে আলোচনা জোরদার করেছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম খবর দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এসব ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে।

তবে এই পরিস্থিতির পাশাপাশি বাজারের কাছে একটি আশার আলোও দেখা যাচ্ছে– সরবরাহের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য বৃদ্ধি। আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে তেলের মজুতের পরিমাণ ১ কোটি ১৪ লাখ ব্যারেল বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে একই সময়ে পেট্রোল ও ডিস্টিলেটের মজুত কমেছে। এই দৃষ্টিতে, ক্ষুধা ও উত্তেজনার মধ্যেও উত্পাদন বৃদ্ধি বা সরবরাহের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *