123 Main Street, New York, NY 10001

ইরানে আবারও জেন-জি বা তরুণ প্রজন্মের বিক্ষোভ আন্দোলন বড় আকারে শুরু হয়েছে, যেখানে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা চোখে পড়ে। রোববারে রাজধানী তেহরানে সাধারণ মানুষ টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ব্যাপক আন্দোলন, সমাবেশ এবং মিছিল করেছেন। এই আন্দোলনের মূল কারণ হলো গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে সংঘটিত আন্দোলনে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহতদের স্মরণে নতুন করে এই কর্মসূচি শুরু করা। মূলত তরুণ প্রজন্মের এই বিক্ষোভকারীদের দাবি হলো সেই সময়ের হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়, শনিবার থেকেই তেহরানের রাস্তাঘাটে সরকারবিরোধী স্লোগান গগনবিদ্রোহ করছে।

বিক্ষোভের এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বর্তমান সরকারের সমর্থক তরুণ-তরুণীরাও পাল্টা র‍্যালি ও সমাবেশের ডাক দিয়েছেন। এর ফলে তেহরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে এবং কিছুটা স্নায়ুবির পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ফার্স নিউজের রিপোর্ট অনুযায়ী, তেহরানের তিনটি প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ে এই আন্দোলন দৃশ্যমানভাবে শক্ত অবস্থানে চলে এসেছে। এর মধ্যে শিরিফ বিশ্ববিদ্যালয় সবচেয়ে বেশি সক্রিয় হয়েছে এবং এখানে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের অগ্রভাগে থাকছে, সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণকে সংগঠিত করে চলেছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, শিরিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পূর্বপুরুষের আমলের পতাকা হাতে নিয়ে মিছিল করছে। তারা বর্তমান সরকারের কঠোর নীতির বিরুদ্ধে গোঙানি দিয়ে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর নজরদারি থাকা সত্ত্বেও, শিক্ষার্থীরা তাদের অবস্থান থেকে সরে না এসে লড়াই অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করছে। তরুণদের এই spontaneous অংশগ্রহণ ইরানের গুণগত রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপর বড় ধরনের প্রশ্ন তোলছে।

প্রজ্বলমান এই অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার মধ্যে পারমাণবিক প্রকল্পের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া আলোচনাও খুব সংবেদনশীল পর্যায় পৌঁছেছে। ওয়াশিংটনের হুমকি-ধামকি, সম্ভাব্য সামরিক হুমকি দিয়ে এই আলোচনা জটিল আকার ধারণ করেছে। এরকম সময়ে ইরানের ভেতরকার জনবিক্ষোভ দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতাকে গভীর সংকটে ফেলেছে। একদিকে বাহ্যিক চাপের মোকাবিলা, অন্যদিকে তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভের অবসান—এই দুই সংকটে ইরান সরকার অস্থির। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক চাপ আর অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের সংমিশ্রণ ইরানকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই বিক্ষোভের ভবিষ্যৎ গন্তব্য সম্পর্কে বিশ্বে কৌতূহল ও উদ্বেগের মধ্যেই থাকছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *