123 Main Street, New York, NY 10001

গত সাত বছরে পাকিস্তানে দারিদ্র্যের হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে, যা এখন 28.9 শতাংশে পৌঁছেছে। ইসলামাবাদে এক সাংবাদিক সম্মেলনে দেশটির পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময়ের বিরতির পরে হালনাগাদ তথ্যে দেখা গেছে, গত সাত বছরে দারিদ্র্য 7 শতাংশ বাড়িয়েছে। 2013 থেকে 2018 পর্যন্ত পাকিস্তান কিছুটা দারিদ্র্য কমানোর চেষ্টা করলেও, এখন দেখা যাচ্ছে সেই ধারা সম্পূর্ণ উল্টো দিকে মোড় নিয়েছে। মন্ত্রী মনে করেন, এই দারিদ্র্য বৃদ্ধির জন্য দেশের অর্থনীতি মারাত্মক সমস্যার মুখে পড়েছে এবং এর সমাধানে গভীর ও শৃঙ্খলাবদ্ধ সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

নতুন এই পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, দারিদ্র্য শুধু গ্রামগঞ্জে নয়, শহরগুলোতেও ব্যাপক হারে বেড়েছে। সরকারি পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, শহর এলাকার দারিদ্র্যের হার আগে ছিল ১১ শতাংশ, যা এখন বেড়ে ১৭.৪ শতাংশে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, গ্রামাঞ্চলে এই হার ২৮.২ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ৩৬.২ শতাংশে পৌঁছেছে। এটাই প্রমাণ করে যে দেশটির অধিকাংশ মানুষ জীবনযাত্রার মৌলিক মান রক্ষা করতে হিমশিম খাচ্ছে। বিশেষ করে নিত্যপণ্যের দাম ও জীবনযাত্রার খরচ বাড়ার কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা মারাত্মকভাবে সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

প্রাদেশিক তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের চারটি প্রদেশেই দারিদ্র্য বেড়েছে। সর্বোচ্চ আছে বেলুচিস্তানে, যেখানে প্রায় ৪৭ শতাংশ মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে অবস্থান করছে। পাঞ্জাব প্রদেশেও দারিদ্র্য হার ১৬.৫ শতাংশ থেকে বেড়ে এখন ২৩.৩ শতাংশ। সিন্ধু প্রদেশে এই হার ৩২.৬ শতাংশ, আর খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে ৩৫.৩ শতাংশ। رغم, সব থেকে বেশি ভয়ঙ্কর চিত্র দেখা যাচ্ছে বেলুচিস্তানে, যেখানে দারিদ্র্য অত্যন্ত বেশি। পরিকল্পনামন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, প্রাদেশিক সরকারের উন্নয়ন বাজেট কেন্দ্রীয় সরকারের তুলনায় তিনগুণ বেশি হওয়া সত্ত্বেও দারিদ্র্য ও বৈষম্যের হার কমছে না।

দারিদ্র্য আর অর্থনৈতিক বৈষম্য বৃদ্ধির পাশাপাশি পাকিস্তানে এই দুর্বিষহ পরিস্থিতি আরও গভীর হয়ে উঠছে। বৈষম্যের হার এখন ২৮.৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩২.৭ শতাংশে পৌঁছেছে। আহসান ইকবালের মতে, দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক নীতির ধারাবাহিকতার অভাব, কোভিড-১৯ মহামারির দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব, এবং আন্তর্জাতিক অর্থ aid সংস্থার (আইএমএফ) শর্তযুক্ত কর্মসূচির কারণে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে পাকিস্তানি রুপির চরম অবমূল্যায়নের ফলে মূল্যস্ফীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। তিনি জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে শুধু আইএমএফের কঠোর শর্ত মানা আর কোনো বিকল্প ছিল না। সরকারকে এই কঠিন শর্ত মানতেই হয়েছিল, যেখানে দেশের অর্থনীতি ও জনগণের জীবনযাত্রার উন্নতি একান্তভাবেই জড়িত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *