123 Main Street, New York, NY 10001

আজ মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠনের কর্মীরা। তবে এই শ্রদ্ধা নিবেদন কেন্দ্র করে ডাকসুতে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিভাজনের ছবি প্রকাশ পায়, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম এবং জিএস এস এম ফরহাদের নেতৃত্বে একটি দল শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানান, কিন্তু উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কার্যনির্বাহী সদস্যের উপস্থিতি বা আমন্ত্রণ না জানানো নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংগঠনের একাধিক সদস্য। এর মধ্যে সর্ব মিত্র চাকমা ফেসবুকে একটি স্ক্রিনশট শেয়ার করে এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি জানান, শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণে তিনি এবং অন্য কয়েকজন সদস্য কেবল টেলিভিশনের মাধ্যমে অবগত হয়েছেন। এই পোস্টের মাধ্যমে তিনি ডাকসু কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন বিভ্রান্তি ও অপ্রয়োজনীয় অংশগ্রহণের দিকে আঙুল তুলে তাকান। পোস্টে নাম নেওয়া আরেকজন সদস্য ফাতেমা তাসনিম জুমা, হেমা চাকমা, উম্মে উসওয়াতুন রাফিয়া ও উম্মে সালমা সহ অন্যরা বিদ্রূপের মুখে পড়েন। অভিযোগ উঠেছে, মূলত ছাত্র শিবিরের সম্পর্কিত কিছু নেতা সেখানে উপস্থিত ছিলেন, এবং বেশিরভাগ সাধারণ সদস্যরা পরিকল্পিতভাবে এড়িয়ে যান। এই পরিস্থিতি শিক্ষার্থীদের মনোভাব ও অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেছে।

অন্যদিকে, একুশের প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর, অর্থাৎ রাত ১টার সময়, শহীদ মিনারে প্রত্যেকের মধ্যে কিছু নেতাকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে দেখা যায়। পবিত্র এই স্থানে এই বিভাজন ও দূরত্ব তৈরি হওয়াকে অত্যন্ত দুঃখজনক হিসেবে দেখেছেন ক্ষুব্ধ সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সর্ব মিত্র চাকমার সেই পোস্ট দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়, যেখানে তিনি বিদ্রূপের তালে লিখেছেন, ‘আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মাধ্যমে জানলাম, ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’ এই ঘটনার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সচেতন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একুশের চেতনায় যেখানে ঐক্য ও বৈষম্যহীনতার কথা বলা হয়, সেখানে এরকম অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও একক গোষ্ঠীর প্রাধান্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এই বিষয় নিয়ে ভিপি সাদিক কায়েম বা জিএস এস এম ফরহাদের তরফ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। এতে করে মহান শহীদ দিবসের প্রথম প্রহরে ডাকসুর অভ্যন্তরীণ ফাটল সংবাদ মাধ্যমে আলোচনা ও বিতর্কের মুখোমুখি হয়েছে, যা ভবিষ্যতের ছাত্র রাজনীতির জন্য নতুন আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *