123 Main Street, New York, NY 10001

ইউরোপের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ক্লাব ফুটবল প্রতিযোগিতা উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অখ্যাত নরওয়ের ক্লাব বোডো/গ্লিম্ট গড়ে তোলছে এক মহাকাব্য। জানুয়ারিতে তারা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন মানচেস্টার সিটির বিপক্ষে নারসিকতার পরিচয় দেয়, আর এবার ঘরের মাঠে ইন্টার মিলানকে ৩-১ ব্যবধানে পরাজিত করে তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকে আরও শক্ত করে তুলছে। বুধবার রাতে নরওয়ের আস্পমাইরা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই প্রথম লেগের ম্যাচে বোডো/গ্লিম্ট তাদের অসাধারণ পারফরম্যান্সে নাটকীয়ভাবে ইন্টার মিলানকে হারানোর স্বপ্ন দেখাচ্ছে। মাত্র ৫৫ হাজার বাসিন্দার ছোট শহর থেকে উঠে আসা এই ক্লাবটি এখন ইউরোপসেরা দলগুলোর জন্য এক নতুন আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

খেলায় শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দিয়েছে বোডো/গ্লিম্ট। যদিও বলের দখলে তারা পিছিয়ে ছিল, কিন্তু কার্যক্রমে তারা ছিল ভিন্ন। ২০তম মিনিটে মিডফিল্ডার সোন্দ্রে ব্রান্সটাডের দর্শনীয় গোলের মাধ্যমে তারা এগিয়ে যায়। কিন্তু ইন্টার মিলান সহজে হার মানেনি। ৩০ মিনিটের মধ্যে পিও এস্পোসিতো গোল করে সমতা আনে। বিরতি পর্যন্ত এই ১-১ সমতার মধ্যে থাকলেও মনে হচ্ছিল, ইন্টার ম্যাচে ফিরে আসবে।

কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই পুরো ছবি পাল্টে যায়। মাত্র তিন মিনিটে দুই গোল করে বোডো/গ্লিম্ট তাদের রক্ষণভাগকে ঢাকন করে দেয়। ৬১ মিনিটে জেন্স পিটার হাউগ ও ৬৪ মিনিটে ক্যাসপার হগের দ্রুতগতি ও নিঃস্বার্থ অ্যাসিস্টের মাধ্যমে তাদের দ্বিতীয় গোল হয়। এই জয়ে আস্পমাইরা স্টেডিয়াম উল্লাসে ভরে উঠে। পুরো ম্যাচে বোডো মাত্র ৮টি শট নিয়েছে, যার বেশিরভাগই লক্ষ্যভেদে সফল ছিল, যা তাদের ক্লিনিক্যাল ফিনিশিংয়ের প্রমাণ। অন্যদিকে, ইন্টার ১১টি শট নিয়েও লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সাত জয়ের স্বপ্ন দেখলেও এই হারে তারা বড় ধাক্কা খায়।

এটি একেবারে বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এর আগে তারা অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের মাঠেও ২-১ গোলে হারিয়েছিল। বিশ্লেষকরা বলছেন, বোডো/গ্লিম্ট আর কেবল অঘটন সৃষ্টিকারী দল নয়, বরং তারা কৌশলী ফুটবলের এক নতুন শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। এই পরাজয় ইন্টার মিলানের শেষ ষোলোয় পৌঁছার পথে একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী মঙ্গলবার ( ফেব্রুয়ারি ২৪) ইন্টার তার ঘরের মাঠে ফিরতি লেগের ম্যাচটি খেলবে, যেখানে তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বেড়াতে চাইছে। যদি তারা সফল না হয়, তবে এই মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নিয়ে যেতেও তাদের দ্বিধা হবে না। অন্যদিকে, রূপকথার গল্পে ডুবতে থাকা বোডো/গ্লিম্ট এখন তাদের প্রথম সেনসেশনকে আরও রঙিন করার জন্য অপেক্ষা করছে, তাঁদের ভবিষ্যৎ দেখার জন্য এখনো অনেকেরই আগ্রহ রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *