123 Main Street, New York, NY 10001

বার্সেলোনার পরবর্তী সভাপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিশ্ব ফুটবলে ব্যাপক উত্তেজনা চলছে। তবে এই নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে সরিয়ে রেখেছেন ক্লাবের ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসি। আগামী ১৫টি সভাপতি নির্বাচনের জন্য প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ধরা হচ্ছে বর্তমান সভাপতি জোয়ান লাপোর্তার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ভিক্টর ফন্ট। যদিও এই নির্বাচনের জন্য অনেক জল্পনা-কল্পনা চললেও স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমগুলো নিশ্চিত করেছে যে, ন্যু ক্যাম্পের ব্যালট বাক্সে এবার মেসির ভোট প্রদান হচ্ছে না। জনপ্রিয়তার কারণে নয়, বরং ক্লাবের চলমান অস্থিরতা এবং প্রশাসনিক সমস্যা ও সম্পর্কের টানাপোড়েনই সম্ভবত এই সিদ্ধান্তের কারণ বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে মেসি ফ্লোরিডার ইন্টার মায়ামির হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। ক্লাবের নতুন মৌসুমের প্রস্তুতির জন্য তাঁর স্পেনে এসে সরাসরি ভোট দেওয়ার মতো সময় ও পরিস্থিতি বর্তমানে সম্ভব নয়। শুধু ভৌগোলিক দূরত্বই নয়, বরং বর্তমান ক্লাব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মেসির সম্পর্কের শীতলতা ও দুরত্বে থাকাটাই মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে, জোয়ান লাপোর্তার সঙ্গে মেসির সম্পর্ক এখন খুবই ঠান্ডা। ২০২১ সালে নির্বাচনে মেসি নিজে উপস্থিত হয়ে ভোট দিয়ে ক্লাবের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছিলেন, যা লাপোর্তার জয়ে সাহায্য করেছিল। কিন্তু এরপরই প্যারিস সেন্ত জার্মেইয়ে যোগ দেওয়ার পরে সেই সম্পর্কের উষ্ণতা কমে যায়।

অন্যদিকে, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ছোট কিন্তু শক্তিশালী প্রার্থী ভিক্টর ফন্ট চেষ্টা করছেন মেসিকে ফিরিয়ে আনার। তিনি প্রকাশ্যে বলেছেন, যদি তিনি নির্বাচিত হন, তাহলে প্রথমেই লিওনেল মেসির সাথে যোগাযোগ করবেন। তবে, এই বিষয়ে মেসির ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, বর্তমানে তিনি কোনো প্রার্থী দীক্ষা বা নির্বাচনী বিতর্কে জড়াতে আগ্রহী নন। তার মনোযোগ এখন নিজের ক্যারিয়ার এবং পরিবারের প্রতি নিবদ্ধ। যদিও তিনি বার্সেলোনার আজীবন সদস্য বা ‘সোসিও’ হিসেবে ভোটের অধিকার রাখেন, কিন্তু বর্তমানে ক্লাবের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না থাকায় তিনি কেবল দর্শক হিসেবেই আছেন।

বার্সেলোনা ভক্তরা আশা করেছিলেন, এই কঠিন সময়ে হয়তো মেসি আবারও পথপ্রদর্শক হিসেবে ফিরে আসবেন। তবে ক্লাবের কর্মকর্তাদের মতে, তিনি সরাসরি উপস্থিত না হয়েও সবসময় ক্লাবের উন্নতি কামনা করেন। সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, এবারের নির্বাচনে মেসি নীরব থাকলেও ভবিষ্যতে ক্লাবের গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারক হিসেবে তার বড় ভূমিকা থাকতে পারে। পাশাপাশি গুঞ্জন উঠছে, তিনি ভবিষ্যতে নিজেও নির্বাচনে দাঁড়াতে পারেন। আপাতত, ১৫ মার্চের নির্বাচনের ফলাফলের দিকে তাকানো হয়েছে, যা নির্ধারিত করবে মেসি এবং বার্সেলোনার ভবিষ্যতের সম্পর্কের ধরন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *