123 Main Street, New York, NY 10001

ত্রয়োর্ধশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ সম্পন্নের প্রস্তুতিতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশের সবজায়গায় ব্যাপকভাবে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও পরিকল্পিত সদস্য মোতায়েন সম্পন্ন করেছে। এ ধরণের প্রস্তুতি নেয়ার মাধ্যমে নিরপেক্ষ, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। সংস্থাটি বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে যে, আসন্ন নির্বাচনের মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি থাকতে, তারা সুপরিকল্পিত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায়, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে সদস্যদের দায়িত্বে নিয়োজিত করেছে। এতে নির্বাচনী অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধে একধাপ এগিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে বারংবার। দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্বলতা দূর করতে, সংস্থাটি নতুন করে কাঠামোগত সংস্কার ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর জন্য কাজ করছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ও আসন্ন নির্বাচনের জন্য নেওয়া প্রশাসনিক সংস্কার, আধুনিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের কারণে দ্রুত নির্বাচনী অনিয়ম শনাক্ত ও প্রতিরোধ সম্ভব হয়েছে। বিশেষ করে, ডিজিটাল ডাটাবেজ ভিত্তিক পদ্ধতি অবলম্বনের মাধ্যমে নির্বাচনী কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে সততা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে। এবার প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভোট কেন্দ্রে সদস্যরা মোতায়েন হয়েছে। কেন্দ্রভিত্তিক আধুনিক তালিকা, স্বয়ংক্রিয় যাচাই ও প্রশিক্ষিত সদস্যের উপর ভিত্তি করে নির্বাচনটি সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে কোনো প্রকার দুর্নীতি বা আর্থিক লেনদেনের সুযোগ রাখা হয়নি। ঢাকার কোতোয়ালী থানার ১৩ জন সদস্যের প্রশিক্ষণ ও ডেটা যাচাই করে প্রাথমিকভাবে তাদের অযোগ্যতা খুঁজে বের করে তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এটাই বাহিনীর প্রযুক্তি নির্ভর জবাবদিহিতা নিশ্চিতের উজ্জ্বল উদাহরণ। গুলশান ও ভাটারা থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই দলনেত্রীদের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা যাচাই করে প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার পর তারা দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পান—যা বাহিনীর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির বাস্তব প্রয়োগের দৃষ্টান্ত। এছাড়াও, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ডিউটির জন্য ভুয়া পরিচয় ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ দ্রুত শনাক্ত হয়, তদন্তে নিশ্চিত হয় যে অভিযুক্ত ব্যক্তি বাহিনীর সদস্য নয়। রাজবাড়ী বালিয়াকান্দিতে আনসার সদস্যের পরিচয়ে প্রতারণার ঘটনা দ্রুত উদঘাটিত হয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এসব ঘটনার পেছনে প্রমাণ হয়েছে, প্রযুক্তি নির্ভর যাচাই ও কঠোর তদারকি চালু থাকার কারণে, দুর্নীতি ও অনিয়মের ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়েছে। অ্যাভমিস সফটওয়্যার, কিউআর কোডসহ আধুনিক পরিচয়পত্র এবং এসটিডিএমএসের মাধ্যমে ভাতা ও সুবিধা সরাসরি বিতরণের ফলে ভুয়া পরিচয় বা অর্থ আত্মসাতের সুযোগ অনেক কমে গেছে। নির্বাচন চলাকালে সদস্যদের খাবার ও অন্যান্য দায়িত্বের জন্য অর্থ প্রদানে স্বচ্ছতা ও নৈতিকতা আরও জোরদার হয়েছে। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী বিশ্বাস করে যে, সঠিক নিয়ম, ধারাবাহিক সংস্কার ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার দিয়ে একটি নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব। এই পদক্ষেপগুলো কেবলমাত্র আঞ্চলিক বা সাময়িক লাভই নয়, এটি দীর্ঘমেয়াদি রীতিনীতি ও প্রতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য, যা জনসাধারণের আস্থা ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *