123 Main Street, New York, NY 10001

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) এর ইজারা নিয়ে শ্রমিকদের চলমান অনির্দিষ্টকালীন কর্মবিরতি শুরুর কারণে আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রম থেমে আছে। এই সমস্যা সমাধানে গত বৃহস্পতিবার নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন পতৌয়ায় উদ্যোগ নেন। তার প্রচেষ্টায় চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের (এনসিটি) ইজারা বিষয়ে শ্রমিক ও কর্মচারীদের চলমান কর্মবিরতি দুই দিনের জন্য স্থগিত হয়। বোট ক্লাবে আন্দোলনরত শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে, এর ফলে পুরো বন্দরের অচলাবস্থা এখনও সারানো সম্ভব হয়নি।

এরই মধ্যে একটি নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, নিউমুরিং কনটেইনার ডিপো ওয়ার্ল্ডকে লিজ না দেওয়ার সিদ্ধান্তের পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরে ফের ইজারা বাতিলের দাবিতে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। রবিবার সকাল ৮টা থেকে এই স্থগিতাদেশ কার্যকর হবে। শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে একটি সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সমন্বয়ক মো. ইব্রাহীম খোকন এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

এই আন্দোলনের প্রধান তিনটি দাবি হলো: প্রথমত, চট্টগ্রাম বন্দরের প্রধান সংকটের মূল কারণ নিরূপণ করে বর্তমান চেয়ারম্যান এসএম মনিরুজ্জামানকে পদ থেকে প্রত্যাহার করতে হবে। দ্বিতীয়ত, বিগত আন্দোলনে কর্মচারী ও শ্রমিকদের বিরুদ্ধে নেওয়া বদলি, চার্জশিট, বরখাস্ত ও পদাবতনের শাস্তিমূলক পদক্ষেপগুলো বাতিল করে প্রত্যেককে তাদের পুরোনো পদে পুনর্বহাল করতে হবে। তৃতীয়ত, আন্দোলনরত শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে যেকোনো আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দরকার নেই।

বন্দর রক্ষা পরিষদের নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শ্রমিকদল নেতা মো. হুমায়ুন কবীর, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি মো. হারুন, সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম, কার্যকরী সভাপতি আবুল কাসেম, মার্চেন্ট শ্রমিক ইউনিয়নের ইয়াসিন রেজা রাজু, জাহিদ হোসেন, মো. হারুন, উইন্সম্যান সমিতির ইমাম হোসেন খোকন, শরীফ হোসেন ভুট্টোসহ আরও অনেকে।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেনের আশ্বাসে শ্রমিক নেতারা দুই দিনের জন্য আন্দোলন স্থগিত করেন। পক্ষান্তরে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মধ্যে মোংলা ও পায়রা বন্দরে আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ১৫ জনের ওপর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং তাদের অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদ তদন্তের জন্য নৌপরিবহন সচিবের কাছে নোটিশ পাঠিয়েছে বন্দরের কর্তৃপক্ষ।

বৈঠকে শ্রমিকদের পক্ষে বেশ কিছু দাবি উত্থাপন করা হয়। তারা চেয়ারম্যানের পদত্যাগ, ১৬ কর্মচারীর বদলি ও শাস্তির প্রত্যাহার, বন্দরের স্বার্থবিরোধী কোনো চুক্তি না করার এবং ডিপি ওয়ার্ল্ড নামের প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশে আনা না করার জন্য জোর দাবি করেন। আন্দোলনকারীরা জানান, উপদেষ্টার সাথে আলোচনা ও দেশের অর্থনীতির ভাবনা মাথায় রেখে তারা দুই দিন আন্দোলন স্থগিত রেখেছেন। তবে, যদি এই সময়ে তাদের দাবি পূরণ না হয়, তবে তারা আবার কঠোর কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি নিবে।

অন্যদিকে, বৈঠক শেষে নৌপরিবহন উপদেষ্টা বলেছেন, দেশের স্বার্থে এনসিটি বিষয়ে চুক্তি সম্পন্ন হবে এবং সরকার নিয়মিত শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য কঠোর অবস্থানে থাকবে। তিনি জানান, শ্রমিকদের দাবির ব্যাপারে তাদের সঙ্গে আলোচনা চলবে এবং দেশের স্বার্থের ক্ষতি করা হবে না। সরকারি কঠোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করে, তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, শ্রমিক আন্দোলনকে দমন করতে সরকার কোনরকমে ছাড় দেবে না।

শ্রমিকরা উপদেষ্ঠার আশ্বাসের পর দুদিনের আন্দোলন স্থগিত করেন। কিন্তু, যদি সরকারের সিদ্ধান্ত বা দাবি মানা না হয়, তবে তারা আবার রোববার থেকে আবারও কঠোর কর্মসূচি চালিয়ে যাবার ঘোষণা দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *