123 Main Street, New York, NY 10001

চট্টগ্রাম বন্দরে চলমান অচলাবস্থা দীর্ঘ দিন ধরে চলমান থাকায় দেশের মূল সামুদ্রিক বন্দরটি কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। শ্রমিকদের লাগাতার ধর্মঘটের কারণে পণ্য ও কনটেইনারের ওঠানামা একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে আমদানির পণ্য আটকা পড়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দেশের অর্থনীতি বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব মুখোমুখি হতে পারে।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৮টায় ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’ স্পষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী লাগাতার এই ধর্মঘট শুরু করে। এর ফলে বন্দরের সব ধরনের কার্যক্রম—পণ্যবাহী ট্রাক ও ট্রেলার চলাচল, পণ্য বোঝাই ও নামানোর প্রক্রিয়া— সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। বন্দরে আসা হাজার হাজার কোটি টাকার আমদানি-রপ্তানি পণ্য আটকা পড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও বেড়েছে।

তবে বন্দরের ভেতরে কিছুই চোখে পড়েনি। একদিকে শ্রমিক ও কর্মচারীরা কর্মস্থলে না এসে প্রবেশপথ ও আশেপাশে অবস্থান নিয়েছেন, অন্যদিকে কোনও ধরনের পণ্যবাহী ট্রাকে প্রবেশ বা বের হওয়া দেখা যায়নি। সংগঠনের একজন সমন্বয়ক মো. ইব্রাহীম খোকন জানান, এই আন্দোলনে সাধারণ শ্রমিকের শতভাগ সমর্থন রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের সম্পদ রক্ষার জন্য পরিচালিত এই আন্দোলন দমন-পীড়নের শিকার হচ্ছে—অভিযুক্ত করা হচ্ছে বলেও তারা জানান। বিশেষ করে, শামসু মিয়া ও আবুল কালাম আজাদ নামের দুজন গুরুত্বপূর্ণ শ্রমিক নেতাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তুলে নেয়া হয়েছে, যা আন্দোলনকারীদের মধ্যে অতিরিক্ত অসন্তোষ তৈরি করেছে। তবে এই বিষয় নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বর্তমানে বন্দরের আশপাশের এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রচুর পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, তাঁদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আলোচনা বা কাজ করা হবে না। তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব ডিপি ওয়ার্ল্ড কোম্পানিকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল, আন্দোলনরত শ্রমিকদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার করা, এবং চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমান চেয়ারম্যানকে পদ থেকে সরানো।

উল্লেখ্য, এই আন্দোলন শুরু হয় ৩১ জানুয়ারি। প্রথমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের উদ্যোগে শুরু হলেও পরে এটি সাধারণ শ্রমিক-কর্মচারীদের আন্দোলনে রূপ নেয়। আগের সপ্তাহে নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম. সাখাওয়াত হোসেন যখন বন্দর পরিদর্শন করেন, তখন তাঁকে আন্দোলনকারীরা তীব্র প্রতিবাদ জানান। কিছু বাধ্যবাধকতার কারণে শ্রমিকরা দুই দিন ধর্মঘট স্থগিত করলেও পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় শনিবার পুনরায় রোববার থেকে লাগাতার ধর্মঘটের ঘোষণা দেওয়া হয়। এখন বন্দরের প্রবেশপথে কড়া পাহারা চলছে, ফলে ব্যবসায়ীরাও গভীর উদ্বেগে রয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্যজট ও অর্থনৈতিক সংকট আরও জটিল রূপ নিতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *