123 Main Street, New York, NY 10001

বাংলাদেশের বিদেশি ঋণের পরিমাণ গত তিন বছরে দেড় গুণের বেশি বেড়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরের হিসাবে, মোট বিদেশি ঋণ ছিল ৯ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা, যা ২০২২ সালের জুনে ছিল মাত্র অর্ধেকের কাছাকাছি। অর্থ মন্ত্রণালয় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য দেওয়া হয়েছে।

এই বৃদ্ধির মূল কারণ হলো কোভিড-পরবর্তী সময়ে বাজেটের জন্য অর্থের সুবিধাজনক উৎসের অভাব এবং দেশের মুদ্রার অবমূল্যায়ন। রাজস্ব আদায়ে দুর্বলতা এবং বাজেটের ঘাটতি বাড়ার কারণে সরকার প্রকল্পের চেয়ে বাজেটের জন্য আর্থিক সহায়তা বা ঋণের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। দ্রুত অর্থ সংগ্রহের সুবিধার কারণেও এটি হয়েছে।

২০২১-২২ অর্থবছর থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত মোট ৯ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলার বাজেটসহায়তা পেয়েছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র গত অর্থবছরে (২০২৪-২৫) এসেছে ৩ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার। এই অর্থবছরে বাজেট সহায়তা ঋণের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় ৬৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে প্রকল্প ঋণ কমেছে ২৯ শতাংশের বেশি।

অতিরিক্তভাবে, ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়ার কারণেও ঋণের বোঝা বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) সরকারের মোট ঋণ ১ শতাংশ বেড়ে ২১ লাখ ৪৯ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এতে জিডিপির তুলনায় ঋণের অনুপাত প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে ৩৮.৬১ শতাংশে পৌঁছেছে। মোট ঋণের মধ্যে ১১ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে নেওয়া হয়েছে, বাকিগুলো বিদেশি ঋণ।

ঋণের বোঝা বাড়ার কারণে সরকারের সুদ পরিশোধের চাপও বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে, সুদ বাবদ ব্যয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩১ হাজার ৬২৬৯ কোটি টাকা হয়েছে। এর মধ্যে, অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ পরিশোধ ১৯ শতাংশ বেড়েছে, আর বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধ সূচকটি বেড়েছে ৮০ শতাংশ। অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ পরিশোধের ক্ষেত্রে ট্রেজারি সিকিউরিটিজ খাতে ব্যয় ২১ শতাংশ এবং জাতীয় সঞ্চয়পত্রে ১৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *