123 Main Street, New York, NY 10001

পাকিস্তানের অস্থিতিশীল প্রদেশ বেলুচিস্তানে সাম্প্রতিক ভয়াবহ সহিংসতাকে কেন্দ্র করে ভারত ও পাকিস্তান মধ্যকার রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। দুদেশের মধ্যে নতুন করে তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে, যা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেপাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলেও এর প্রভাব পড়ছে। গত সপ্তাহে বেলুচিস্তানে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর হামলার ঘটনায় ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে বলে জানা গেছে। পাকিস্তান ইসলামাবাদ সরাসরি অভিযোগ তোলে যে, ভারতের সাহায্যে এই সহিংসতা সংগঠিত হয়েছে। তবে নয়াদিল্লি এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলে যে, পাকিস্তান দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে। এই অংতর্ক নিয়ে দুই প্রতিবেশী দেশের কূটনীতিকের মধ্যে কথার লড়াই বাক-বিতণ্ডায় রূপ নিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত সপ্তাহে, যখন বেলুচিস্তানের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) একযোগে ব্যাংক, নিরাপত্তা বাহিনী ও সরকারি ভবনগুলোতে ভয়াবহ হামলা চালায়। এতে কমপক্ষে ৫০ জনের প্রাণহানি ঘটে। এর জবাবে পাকিস্তানের সেনা ও পুলিশ দ্রুত বড় ধরনের অভিযান চালিয়ে অনেক সন্ত্রাসীকে হত্যা করে বলে দাবি করছে ইসলামাবাদ। অন্যদিকে পাকিস্তান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি বলেছেন, তারা দেশি ও ভারতীয় এজেন্টদের নির্মূল করতে সক্ষম হয়েছেন। পাকিস্তান দাবি করে, তারা বিএলএ-কে ভারত থেকে অর্থ ও অস্ত্র সহায়তা प्राप्त করে চলেছে বলে শুনতো। তবে, আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান এই বিষয়ে কার্যকর কোনও প্রমাণ দিতে পারেনি।

পাকিস্তানের এই অভিযোগের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কড়া প্রতিক্রিয়া জানায়। মন্ত্রীর মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, পাকিস্তানের এই অভিযোগ ভিত্তিহীন। তিনি মনে করেন, পাকিস্তান নিজের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতার দিক থেকে দৃষ্টি সরাতে এই ধরনের অভিযোগ করে থাকে। ভারতের পক্ষ থেকে এও বলা হয়, পাকিস্তানের উচিত বেলুচিস্তানের সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ন্যায্য দাবি ও অধিকারকে সম্মান করা। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বেলুচিস্তানে পাকিস্তানের মানবাধিকার লঙ্ঘন ও স্বৈরাচারী দমননীতির কথা এখন আন্তর্জাতিক মহলেও অজানা নয়।

এখন এই কূটনৈতিক লড়াই কেবল সরকারের বিবৃতিতে সীমাবদ্ধ নেই, এটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিতর্ক সৃষ্টি করছে। ভারতের দাবী, পাকিস্তান নিজের প্রশাসনিক দুর্বলতা ঢাকতে ভারতকে অঙ্গীকার করছে এবং স্বীয় নিরাপত্তা রক্ষায় বাধা সৃষ্টির জন্য ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে। অন্যদিকে পাকিস্তান মনে করে, ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তাদের সীমান্তে অস্থিতিশীলতা তৈরিতে বিএলএ-কে মদত দিচ্ছে। এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ফলে বেলুচিস্তানের প্রকৃত সমস্যা ও জনগণের দীর্ঘদিনের অসন্তোষের বিষয়টি অনেকটাই নিশ্চুপ হয়ে পড়েছে বলে মনে করেন মানবাধিকার কর্মীরা। এই দ্বন্দ্বজনিত পরিস্থিতি বেলুচিস্তানের শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে আরও ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে, যা পুরো অঞ্চলের জন্য উদ্বেগজনক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *