123 Main Street, New York, NY 10001

ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের মার্কিন সামরিক বাহিনীর হাতে বন্দি হওয়ার এক মাস পূর্ণ হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে ও দ্রুত মুক্তির প্রত্যাশায় মঙ্গলবার রাজধানী কারাকাসসহ সারাদেশে প্রবল বিক্ষোভ শুরু হয়। ‘গ্রান মার্চ’ নামে এক বিশাল মহাসমাবেশে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে মার্কিন প্রশাসনের এই কার্যকলাপের জোরদার নিন্দা জানান। ৩ জানুয়ারি এক রক্তক্ষয়ী অভিযানে মাদুরো দম্পতিকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়, যা ভেনেজুয়েলার সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দেয়।

কারাকাসে এই মহান গণস্মরণে আন্তরিক ভাষণে ছিলেন মাদুরোর ছেলে ও ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির সদস্য নিকোলাস মাদুরো গুয়েরা। তিনি পিতাকে বিদেশি সেনাকর্তৃক তুলে নেওয়ার ঘটনাকে ভেনেজুয়েলার দেশের ইতিহাসের এক গভীর ক্ষত ও কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করেন। তার মতে, বিদেশি বাহিনীর এই হস্তক্ষেপ ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব ও প্রিয় মাতৃভূমিকে চরমভাবে ক্ষতবিক্ষত করেছে। দেশের বিভিন্ন সরকারি কর্মচারী ও সাধারণ মানুষ ব্যানার ও পোশাকের মাধ্যমে মাদুরোর ছবি ধারণ করে ‘ভেনেজুেলার জন্য নিকোলাস প্রয়োজন’ শ্লোগান দেন, আর দর্শকপ্রান্তর সরব হয়ে উঠে। এই প্রতিবাদ কর্মসূচি শুধু দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং বিশ্বের নানা প্রান্তে ‘ভেনেজুয়েলা থেকে হাত তোলো’ স্লোগানে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই বন্দি পরিস্থিতিকে অবৈধ ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করে সমর্থন জানানো হয়েছে।

বর্তমানে ভেনেজুেলার অন্তর্বর্তীকালীন নেত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ডেলসি রদ্রিগেজ। মাদুরোর অনুগামীদের আবেগ ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর শর্তের মাঝে তিনি এক কঠিন পরিস্থিতির মোকাবেলা করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, ভেনেজুয়েলার গুরুত্বপূর্ণ খনিজ তেলসম্পদ ও সম্পদসমূহের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে গেলে তারা রদ্রিগেজ সরকারের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করবে। এই আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রদ্রিগেজ কিছুটা নমনীয় হয়ে কিছু রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দিয়েছেন এবং জাতীয় দখলে থাকা জ্বালানি খাতের সঙ্গে বিদেশি ও বেসরকারি লগ্নি উন্মুক্ত করেছেন।

তবে দেশের ভেতরের পরিস্থিতি এখনও শান্ত নয়। একই দিনে কারাকাসের অন্য একটি অংশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বন্দিদের পরিবারের সদস্যরা পৃথক একটি পদযাত্রা করেন। তারা ডেলসি রদ্রিগেজের প্রতিশ্রুত ‘সাধারণ ক্ষমা আইন’ দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানান। যদিও রদ্রিগেজ এই আইনের মাধ্যমে বন্দিদের মুক্তির প্রতিশ্রুতি দিলেও, সেই বিল এখনো পার্লামেন্টে উত্থাপিত হয়নি, যার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। সব মিলিয়ে, শীর্ষনেতাদের বন্দিত্ব, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং দেশের ক্রান্তিকাল প্রবল আকারে চলমান থাকায় আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলা এখন এক কঠিন সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *