123 Main Street, New York, NY 10001

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা সম্প্রতি ঢাকার ব্যস্ত নগরীতে অবস্থিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেছেন, যা গ্রামবাসীর জন্য কয়েক দিনের মধ্যে সাধারণের জন্য উন্মুক্ত হবে। এই বিশেষ পরিদর্শনটি হলো গণঅভ্যুত্থানে শহীদ প্রায় ৪,০০০ মানুষের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করে শুরু হয়। অনুষ্ঠানের মূল অংশে প্রতিনিধিরা জাদুঘরের বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন ও এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে মনোযোগ দিয়ে বুঝেছেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এম তৌহিদ হোসেন, যারা দর্শকদের জাদুঘর সম্পর্কে তথ্য এবং এর উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেন। মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী বলেন, এর মূল লক্ষ্য হলো শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বজুড়ে এমন দুঃশাসনের পুনরাবৃত্তি রোধ করা। তিনি উল্লেখ করেন, এই জুলাই জাদুঘর অন্য দেশের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় রাখবে। অন্যদিকে, এম তৌহিদ হোসেন এই জাদুঘরকে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সংগ্রামের জীবন্ত প্রতিফলন হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, এটি জুলাইয়ের ৩৬ দিনের বিপ্লবের স্মৃতিচিহ্নের পাশাপাশি দেশের ইতিহাসে বিভিন্ন দুঃশাসনের দিকগুলোও উপস্থাপন করে। তিনি আরও জানান, হালকা করে বললে, এই জাদুঘর ইতিহাসের ভুলত্রুটিগুলো অপসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে যাতে ভবিষ্যতে একই ধরনের দুঃশাসন আর না হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, ‘এই জাদুঘর পরিদর্শন করে আমি খুবই আনন্দিত। এটি আমাদের বোঝার গভীরতা বাড়ায় যে, বিপ্লব কিভাবে ঘটে এবং বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থান কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এটি আমাদের অনুপ্রেরণার উৎস এবং শক্তিশালী স্মৃতি।’ জাদুঘরের চিফ কিউরেটর তানজিম ওয়াহাব অতিথিদের বিভিন্ন কারিগরি ও শৈল্পিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বিশদ ধারণা দেন। এই কর্মসূচিতে আলজেরিয়া, আর্জেন্টিনা, ভুটান, ডেনমার্ক, মিশর, ফ্রান্স, ইরান, ইরাক, ইতালি, কসোভো, লিবিয়া, মরক্কো, নেপাল, নরওয়ে, পাকিস্তান, ফিলিস্তিন, রাশিয়া, সিঙ্গাপুর, স্পেন ও তুরস্কের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনসহ এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), ইউনেস্কো, ডব্লিউএফপি, আইওএম, একেডিএন ও বিমস্টেকের শীর্ষ প্রতিনিধিরাও এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। অতিথিদের মধ্যে ছিলেন এসডিজি বিষয়ক সিনিয়র সচিব লামিয়া মোর্শেদ, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মফিদুর রহমান। এই পরিদর্শন বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থান ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সচেতনতা ও চেতনার জাগরণে সহায়ক হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *