123 Main Street, New York, NY 10001

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত জেফরি এপস্টেইন সংক্রান্ত

বিপুল পরিমাণ গোপন নথি বা ‘এপস্টেইন ফাইলস’ বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। এই

নথিতে মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অত্যন্ত

বিতর্কিত ও চাঞ্চল্যকর কিছু দাবি সামনে এসেছে। নথির তথ্য অনুযায়ী, বিল গেটস এক সময়

রাশিয়ার তরুণীদের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হতেন এবং সেই সুবাদে তিনি একবার

যৌনবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। চাঞ্চল্যকর দাবিটি হলো, সেই রোগ নিরাময়ের জন্য

প্রয়োজনীয় ওষুধ নাকি গোপন চুক্তির মাধ্যমে জোগাড় করে দিতেন খোদ জেফরি এপস্টেইন। তবে

বিল গেটসের পক্ষ থেকে এই অভিযোগকে পুরোপুরি মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে

দেওয়া হয়েছে।

প্রকাশিত এই ৩ মিলিয়ন বা ৩০ লাখ পৃষ্ঠার নথির মধ্যে এমন একটি খসড়া বিবৃতি পাওয়া

গেছে, যা জেফরি এপস্টেইন নিজে বিল গেটসের দীর্ঘদিনের বিজ্ঞানবিষয়ক উপদেষ্টা বরিস

নিকোলিচের নামে লেখার চেষ্টা করেছিলেন। সেই খসড়াতে দাবি করা হয় যে, উপদেষ্টা

নিকোলিচ গেটসের ব্যক্তিগত নানা গোপন কর্মকাণ্ডের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করতেন।

এর মধ্যে অন্যতম ছিল রুশ নারীদের সঙ্গে সম্পর্কের পর সৃষ্ট শারীরিক সমস্যার

মোকাবিলায় গেটসকে গোপনে ওষুধ সরবরাহ করা। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী,

এপস্টেইন ব্যক্তিগতভাবে বিল গেটসের ওপর অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ছিলেন। কারণ দীর্ঘ ছয় বছরের

ব্যবসায়িক ও সামাজিক সম্পর্ক থাকার পরও গেটস এক সময় তাকে ‘পরিত্যাগ’ করেছিলেন।

নিজের সামাজিক সম্মান বাঁচাতে গেটসের সহায়তা না পেয়ে এপস্টেইন তাকে ফাঁসাতে এবং

তাঁর মানহানি করতেই এসব নথিপত্র সাজিয়েছিলেন বলে ধারণা করছেন অনেক বিশ্লেষক।

বিল গেটসের এক মুখপাত্র এই সমস্ত অভিযোগের জবাবে অত্যন্ত কঠোর প্রতিক্রিয়া

জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এপস্টেইন ফাইলের এই দাবিগুলো সম্পূর্ণ হাস্যকর এবং

পুরোপুরি সত্যবর্জিত। মুখপাত্রের মতে, এই নথিগুলো কেবল এটাই প্রমাণ করে যে, বিল

গেটসকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হয়ে এপস্টেইন কতটা হতাশ ছিলেন এবং প্রতিশোধ

নিতে তিনি কত নিচে নামতে পারতেন। গেটসের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এপস্টেইনের

সঙ্গে তাঁর পরিচয় কেবল দাতব্য কাজের জন্য তহবিল সংগ্রহের আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ

ছিল এবং সেখানে কোনো অনৈতিক লেনদেন বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের স্থান ছিল না।

উল্লেখ্য যে, জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে বিল গেটসের এই সখ্যতা এর আগেও বড় বিতর্কের

জন্ম দিয়েছিল। ২০২১ সালে এক সাক্ষাৎকারে বিল গেটস স্বয়ং স্বীকার করেছিলেন যে,

এপস্টেইনের সঙ্গে মেলামেশা করা তাঁর জীবনের অন্যতম একটি ‘বড় ভুল’ ছিল। তবে তিনি

দাবি করেছিলেন, গেটস ফাউন্ডেশনের জন্য অনুদান পাওয়ার আশায় তিনি কয়েকবার তাঁর সঙ্গে

নৈশভোজে অংশ নিয়েছিলেন মাত্র। তবে দীর্ঘদিনের এই গোপন বন্ধুত্বই বিল গেটস এবং তাঁর

সাবেক স্ত্রী মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটসের দাম্পত্য বিচ্ছেদের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল

বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বিভিন্ন সময় উঠে এসেছে।

এপস্টেইন ফাইলসের এই সর্বশেষ প্রকাশনা কেবল বিল গেটস নয়, বরং বিশ্বের আরও অনেক

শীর্ষ প্রভাবশালী ব্যক্তির ইমেজকে বড় ধরণের ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। এই তালিকায় বর্তমান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, টেসলার সিইও ইলন মাস্ক এবং ব্রিটিশ

রাজপরিবারের সাবেক সদস্য প্রিন্স অ্যান্ড্রুর মতো ব্যক্তিদের নামও জড়িয়েছে। মার্কিন

প্রশাসন জানিয়েছে, এই নথিগুলোতে বিপুল পরিমাণ ভিডিও ও ছবি রয়েছে যা আগামী দিনগুলোতে

আরও অনেক অজানা সত্য সামনে নিয়ে আসতে পারে। আপাতত বিল গেটস এই অভিযোগের বিরুদ্ধে

আইনি অবস্থান নেবেন কি না, সেদিকেই নজর রাখছে বিশ্ববাসী। তবে নথির বিশালতা এবং এর

বিষয়বস্তু প্রভাবশালী মহলের নীতি-নৈতিকতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *