123 Main Street, New York, NY 10001

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক দিনগুলো চলমান। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের কারণে দেশের আর্থিক অবস্থা আরও শক্তিশালী হচ্ছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জানুয়ারি মাসেও রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে।গত ডিসেম্বরের ধারাবাহিকতায় এই মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা মোট ৩১০ থেকে ৩২০ কোটি ডলার অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এক মাসে বৈধ ব্যাংকিং মাধ্যমে আনুমানিক ৩১৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছে, যা দেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতা আরও বাড়িয়ে তুলছে।দেশের ব্যাংকিং ইতিহাসে এটা তৃতীয়বারের মতো যেখানে রেমিট্যান্সের প্রবাহ ৩ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করল। এর আগে ডিসেম্বরে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৩২২ কোটি ডলার, আর গত বছরের রমজান ও ঈদের মাস মার্চে রেকর্ড হয় ৩৩০ কোটি ডলার। শতকরা হারে দেখলে, গত বছরের জানুয়ারি থেকে এ বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ৪৫ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।২০০৫ সালের জানুয়ারিতে প্রবাসীরা ২১৮ কোটি ডলার পাঠিয়েছিলেন, আর এবার সেই সংখ্যাটির তুলনায় এই অঙ্ক প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি।চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসের তথ্যও খুবই আশার আলো দেখাচ্ছে। গত জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত এই সময়ের মধ্যে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৯৪৪ কোটি ডলার, যেখানে পেছনের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ৫৯৬ কোটি ডলার। এর ফলে প্রবাসী আয় এক বছরের মধ্যে প্রায় ২১.৭৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরে শুরু হওয়া রেমিট্যান্সের এই জোয়ার এখনও অব্যাহত রয়েছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারকে সুসংহত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা মনে করছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের প্রবাসীরা বেশি অর্থ পাঠাচ্ছেন। সাধারণত রমজান ও ঈদুল ফিতরের আগে রেমিট্যান্সের প্রবাহ বৃদ্ধি পায়, কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন; আগেভাগেই অর্থের পরিমাণ বাড়ছে। এর জন্য দায়ী দীর্ঘদিন ধরে কঠোর তদারকি, হুন্ডি ও অবৈধ চ্যানেল থেকে অর্থের পাচার রোধ এবং বৈধ ব্যাংকিং মাধ্যমে অর্থ পাঠানোর প্রতি প্রবাসীদের আগ্রহ। এই সব কারণের মাধ্যমে প্রবাসীদের অবদান দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করছে।বিশাল এই রেমিট্যান্স প্রবাহের ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও গুরুত্বপূর্ণ উন্নতি হয়েছে। গত ২৯ জানুয়ারি তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৩.১৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, এটি বিপিএম৬ পদ্ধতিতে ২৮.৬৮ বিলিয়ন ডলারে রয়েছে। যদিও দেশের আমদানি ব্যয় ৬ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, তবুও রেমিট্যান্সের পরিমাণ এই চাপ মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছে। দীর্ঘসময় ধরে বাজারে ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল রয়েছে—প্রায় ১২২ টাকায়—যা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে অবদান রাখছে। প্রবাসীদের এই অবদান ভবিষ্যতেও দেশের অর্থনীতিকে সুদৃঢ় রাখবে, এটি এরই মধ্যে প্রমাণিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *