123 Main Street, New York, NY 10001

বাংলাদেশ ভারতের আনুষ্ঠানিক বিরোধে আন্তর্জাতিক সালিশী প্রক্রিয়ার জন্য একটি ব্রিটিশ আইনি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দিয়েছে। দেশের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে যাতে কয়লার দাম ও বিদ্যুৎ শুল্ক নিয়ে চলমান বিরোধের নিষ্পত্তি আরও স্বচ্ছ ও সুবিচারপূর্ণভাবে করা যায়। দক্ষিণে লন্ডন ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান থ্রি ভিপি চেম্বার্স, যা সিঙ্গাপুরের আন্তর্জাতিক আরবিট্রেশন সেন্টারে (এসআইএসি) মধ্যস্থতা ও সালিশ কার্যক্রম পরিচালনা করবে, এই কাজের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের পক্ষে আইনি প্রতিনিধিত্ব করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রতিবেদনে জানা গেছে, এই ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের সাধারণত আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে তার দক্ষতা প্রমাণ করেছেন।শাশ্বত চকচকে নেতৃত্বে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানটি আদানির সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি পর্যালোচনায় সহায়তা করে আসছিল। সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে বিদ্যুৎ চুক্তির ব্যাপারে সমন্বয় ও পর্যালোচনা চলাকালীন, এই নিয়োগের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, আদানি পাওয়ার সালিশ প্রক্রিয়া শুরু করার পর বাংলাদেশকে আইনি প্রস্তুতি নিতে হয়েছে।আদানি পাওয়ার দাবি করেছে যে, কয়লার অস্বাভাবিক দামের কারণে তারা বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৪৮৫ মিলিয়ন ডলার পাওনা রয়েছে। তবে চুক্তির মান অনুসারে, সালিশের আগে মধ্যস্থতা বাধ্যতামূলক হলেও তা চূড়ান্ত বাধ্যতামূলক নয়। এর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের পক্ষের অভিযোগ, আদানি বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত কয়লার দাম বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ কৃত্রিমভাবে বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বিদ্যুৎ বিতর্কে বাংলাদেশ আরো দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে উচ্চ আদালত ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মামলা বা সালিশের পথে হাঁটছে। সম্প্রতি, জাতীয় পর্যালোচনা কমিটি বলেছে তারা প্রমাণ সংগ্রহ করেছে যে, আদানি ও তাদের কর্মকর্তাদের সঙ্গে লেনদেনের প্রমাণ রয়েছে, যা আদালতে উপস্থাপন করতে প্রস্তুত। এই প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির তদন্তে দুদক এবং অন্য প্রাসঙ্গিক সংস্থাগুলো নিযুক্ত হয়েছে। উল্লেখ্য, লন্ডনের আইনজীবীরা মনে করেন, যদি এই চুক্তিগুলো দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে থাকে, তবে আন্তর্জাতিক আদালতে তার ক্ষতিপূরণ ঝুঁকি হতে পারে ৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত। বর্তমানে, আদানি ভারতের ঝাড়খণ্ডের গোড়্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। বাংলাদেশ ২০২৫ সালের জুনে ৪৩৭ মিলিয়ন ডলার এককালীন পরিশোধ করে সব পাওনা ফুর্তি করেছে, তবে বকেয়া আদানির পরিমাণ আরও কমানোর জন্য প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে এই বিরোধের জটিলতাও কাটতে শুরু করেছে, ফলে মানুষ ও ব্যবসার জন্য বিদ্যুতের সেবা স্বাভাবিকভাবে চলমান রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *