123 Main Street, New York, NY 10001

পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে সম্প্রতি হাসপাতালে নিয়ে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আতাউল্লাহ তারা। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) জিও নিউজের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এই তথ্য জানান।

তথ্যমন্ত্রীর মতে, গত ২৪ জানুয়ারি রাতে ইমরান খানকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগার থেকে বিশেষ নিরাপত্তার মধ্যে ইসলামাবাদে অবস্থিত পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (পিমস) এ নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে প্রথমে রোগীর চোখের বিশেষজ্ঞরা তার পরীক্ষা করেন। পরে তারা সুপারিশ করেন, একটু বেশি সময় ধরে চিকিৎসা করার জন্য তাকে হাসপাতালে যেতে হবে। তখনই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, শনিবার রাতে তাকে পিমস-এ নিয়ে যাওয়া হয়।

তথ্যমন্ত্রী আরও জানান, ইমরানের লিখিত অনুমোদনের পর তার বিস্তারিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। প্রায় ২০ মিনিটের এই পরীক্ষার শেষে তার সুস্থতার বিষয়ে হাসপাতালের চিকিৎসকগণ নিশ্চিত করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু নির্দেশনা দিয়ে তাকে আদ্যালা কারাগারে ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয়।

তদন্তের সত্যতা নিশ্চিত করতে তিনি বললেন, “চিকিৎসা চলাকালীন তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল ছিল। তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। জেল কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী তার চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে।”

অন্যদিকে, পিটিআই দাবি করেছে, তাদের বিশ্বাসযোগ্য সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ইমরান খানের ডান চোখে সেন্ট্রাল রেটিনাল ভেইন অক্লুশন (সিভিও) ধরা পড়েছে। এই রোগের জন্য যদি দ্রুত সঠিক চিকিৎসা না করা হয়, তবে তিনি চিরতরে দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারেন।

আগে জানুয়ারিতে পাকিস্তান সরকার ইমরানের সঙ্গে কোনো ধরনের দেখা বন্ধ করে দেয়, বলে খবর ছড়িয়েছিল। তবে সম্প্রতি, পিটিআই সদস্যরা ইসলামাবাদ হাইকোর্টে নতুন করে সেলফি এবং সাক্ষাতের অনুমতির জন্য আবেদন দাখিল করেছে।

অন্যদিকে, ইমরানের বোন নওরীন নিয়াজি তাঁর ভাইয়ের জন্য স্বাস্থ্য রিপোর্ট জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানান। তিনি বলেন, “সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের সূত্রে জানা গেছে, ইমরান খানকে অজুহাতে চোখের চিকিৎসার জন্য পিমস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে তিন ঘণ্টা রাখা হয়, তারপর অজানা পরিস্থিতিতে আদিয়ালা কারাগারে ফিরিয়ে আনা হয়।”

নওরীন আরও প্রশ্ন করেছিলেন, “যদি এই সব সত্য হয়, তবে কেন তার পরিবার ও আইনজীবীরা সত্য জানার সাহস পাচ্ছেন না? কার নির্দেশে এসব গোপন রাখা হচ্ছে? আমাদের ভাইয়ের সঙ্গে জেলখানায় কীটা আচরণ করা হয়েছে, তা আমাদের জানার অধিকার আছে।”

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ইমরান খান বিভিন্ন মামলায় আসামি হয়ে কারাগারে আছেন। এই সময় একাধিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মৃত্যুর অমূলক খবরও ভাইরাল হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *