123 Main Street, New York, NY 10001

বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে ব্যাপক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সিদ্ধান্তে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (বেবিচক) বিভক্ত করে দুটি পৃথক সংস্থা গঠন করা হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে একটি সংস্থা এখন থেকে নিয়ন্ত্রক বা রেগুলেটর হিসেবে কাজ করবে, যেখানে অন্যটি বিমানবন্দর পরিচালনা ও নেভিগেশন সেবা প্রদান করবে। গত বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক চিঠিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়, এবং আজ বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে।

বর্তমানে বেবিচক একসাথে দুটি ভিন্ন দায়িত্ব পালন করে আসছে। একদিকে এটি বিমান চলাচলের নিরাপত্তা ও মানদণ্ড তদারকি করে, অপরদিকে বিমানবন্দর পরিচালনা ও এয়ার নেভিগেশন সেবা সরবরাহ করে। এই দ্বৈত দায়িত্বের কারণে দীর্ঘদিন ধরে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হচ্ছিল, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বেশ আলোচনা ও সমালোচনার মধ্যে পড়েছিল। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইসিএও) এ ব্যাপারে বেশ কিছু অডিটে বারবার আলাদা সংস্থা গঠনের পরামর্শ দেয়।

আরও এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গত বছরের ১৮ অক্টোবর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তের পর গঠিত উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি এই বিভক্তির ওপর জোর দেয়। তারা জানায়, এখনকার কাঠামোতে নিয়ন্ত্রণকারী ও পরিচালকের দায়িত্ব একসাথে থাকা তদারকি প্রক্রিয়াকে দুর্বল করে দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারের এই সিদ্ধান্ত বিমান চলাচলের নিরাপত্তা ও সেবা মান উন্নয়নে একটি মাইলফলক বলে মনে করা হচ্ছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় আইন ও বিধিমালা সংশোধন করে নতুন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে। এর ফলে একটি স্বতন্ত্র অপারেটর সংস্থা গঠন হবে, যা দেশের সীমান্তজুড়ে বিমানবন্দর ও নেভিগেশন সেবার দায়িত্ব পালন করবে। এতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও বাধ্যবাধকতা মানা সম্ভব হবে, পাশাপাশি বিমানসেবার মান বহুগুণ বৃদ্ধি পাবার আশা প্রকাশ করা হচ্ছে। এই পদক্ষেপের ফলে দেশের এভিয়েশন সেক্টরে স্বচ্ছতা, দক্ষতা এবং পেশাদারিত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে বলে বিশ্বাস সংশ্লিষ্টদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *