123 Main Street, New York, NY 10001

এক দশকেরও বেশি সময় পর, আগামী ২৯ জানুয়ারি থেকে আবারও শুরু হচ্ছে ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট సేవ। এই নতুন উদ্যোগের ফলে দেশের যাত্রীদের জন্য অনেক অর্থ ও সময়ের সাশ্রয় হবে। বিমানের এই রুটে একমুখী টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ৩০ হাজার ৮৯৯ টাকা, যা পূর্বের তুলনায় অনেক কম। রাউন্ড ট্রিপের জন্য টিকিটের দাম শুরু হবে ৫৬ হাজার ৯০৩ টাকা থেকে। এভাবে, সাধারণ যাত্রীরা আগের তুলনায় অনেক বেশি খরচে ট্রানজিটের মাধ্যমে পাকিস্তানে যেতে হত, যেখানে বর্তমানে ফিরতি টিকিটের দাম ৮৮ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছে যায়। এটি মূলত মহামারীর পর প্রথমবারের মতো এ রুটে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা শুরু হচ্ছে, যা দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীদের ভ্রমণে বিরাট সুবিধা দেবে। মো. তসলিম আমিন, ইনোগ্লোব ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলের সিইও, বলেন, পূর্বে পাকিস্তানে সরাসরি ফ্লাইট না থাকায় যাত্রীদের দুবাই, দোহা বা শারজার মতো শহর হয়ে দীর্ঘ ট্রানজিটে ভ্রমণ করতে হত। এতে সময় বেশ বেড়ে যেত এবং খরচও অনেক বেশি হয়েছিল। এখন এই সরাসরি ফ্লাইটের চালু হওয়ায় সময়ের বিরাট পরিবর্তন আসবে। সাধারণত ঢাকা থেকে করাচি যেতে সময় লাগত ৪ থেকে সাড়ে ৪ ঘণ্টা, কিন্তু ট্রানজিটে যেতে গিয়ে এটি সাড়ে ৮ ঘণ্টা থেকে ১৩ ঘণ্টা পর্যন্ত লেগে যেত। কখনো কখনো ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় লাগত ট্রানজিটের কারণে। ট্রাভেল এজেন্টদের মতে, এ পরিষেবা চালু হলে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং ভাড়া নিয়ন্ত্রণে আসবে। বিমানের কর্মকর্তাদের অনুযায়ী, এই রুটটি প্রথম পর্যায়ে ‘কৌশলগত পর্যবেক্ষণে’ থাকবে। ফ্লাইটগুলি ট্রায়াল ভিত্তিতে চলবে, যা পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে যে এটি স্থায়ী করা হবে কি না, পাশাপাশি ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানোর ব্যাপারেও আলোচনা হবে। শেষবার ২০১২ সালে এই রুটে বিমান চলে, কিন্তু খরচ ও যাত্রীর অভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এখন নতুন উদ্যোগে সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে দুদিন— বৃহস্পতিবার ও শনিবার— ফ্লাইট পরিচালিত হবে। ঢাকা থেকে রাত 8টায় ফ্লাইট ছাড়বে এবং রাত ১১টায় করাচিতে পৌঁছাবে। করাচি থেকে আবার রাত ১২টায় ফ্লাইট ছেড়ে ভোর ৪টে ২০ মিনিটে ঢাকায় আসবে। এ সময়সূচি যাত্রীদের জন্য সুবিধাজনক, যাতে ট্রানজিটের ঝামেলা কম হয় এবং সময় বাঁচে। এই সরাসরি সংযোগ পর্যটন, ব্যবসা এবং পারিবারিক ভ্রমণে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে, যা দেশের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বিমান বাহিনী কর্তৃপক্ষের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা ও কারিগরি অনুমোদনের পর এই যানবাহন চালুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর ফলে চামড়া রপ্তানি, কৃষি বাণিজ্য, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশ সম্ভব হবে, পাশাপাশি পরিবারভিত্তিক ভ্রমণ, ধর্মীয় পর্যটন ও চিকিৎসাসহ অন্যান্য ভ্রমণ সহজ হবে, যা আগে উচ্চ ভাড়ায় এবং দীর্ঘ সময় লাগার কারণে সীমিত ছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *