123 Main Street, New York, NY 10001

গ্রিনল্যান্ড দখলকে কেন্দ্র করে ইউরোপের ওপর শুল্ক আরোপের যে কঠোর হুমকি দিয়েছিলেন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, শেষ পর্যন্ত সেই অবস্থান থেকে তিনি সরে

এসেছেন। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ

বৈঠকের পর ট্রাম্প তার সুর নরম করেছেন এবং সমঝোতার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন,

গ্রিনল্যান্ড এবং পুরো আর্কটিক অঞ্চল নিয়ে একটি সম্ভাব্য চুক্তির ফ্রেমওয়ার্ক বা

রূপরেখা তৈরি হয়েছে। এই অগ্রগতির পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ইউরোপের

দেশগুলোর ওপর যে বাড়তি শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা ছিল, সেই সিদ্ধান্ত তিনি আপাতত

স্থগিত করেছেন।

দাভোসে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প সন্তোষ প্রকাশ করে

বলেন, এটি এমন একটি চুক্তি হতে যাচ্ছে যাতে সব পক্ষই খুশি। তিনি এটিকে একটি

দীর্ঘমেয়াদি এবং সম্ভবত স্থায়ী চুক্তি হিসেবে অভিহিত করেন। ট্রাম্প উল্লেখ করেন যে,

নিরাপত্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের প্রাপ্যতার ক্ষেত্রে এই চুক্তির ফলে সবাই

একটি সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে। এর আগে তিনি গ্রিনল্যান্ড হস্তান্তরের দাবিতে অনড়

থাকলেও এবার তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে কোনো ধরনের

বলপ্রয়োগের ইচ্ছা তার নেই।

অন্যদিকে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুট এই আলোচনার প্রেক্ষাপট পরিষ্কার করেছেন। তিনি

জানান, ডেনমার্কের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো প্রশ্ন বা বিতর্ক

তার আলোচনায় স্থান পায়নি। বরং তাদের আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল আর্কটিক অঞ্চলে

রাশিয়া ও চীনের ক্রমশ বাড়তে থাকা প্রভাব কীভাবে মোকাবিলা করা যায়, সেই কৌশল

নির্ধারণ। মূলত ভূ-রাজনৈতিক নিরাপত্তা এবং কৌশলগত স্বার্থ রক্ষাই ছিল এই আলোচনার

মুখ্য বিষয়।

এদিকে ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ডের স্থানীয় সরকার তাদের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে

বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে রাজি নয়। ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন

ট্রাম্পের সুর নরম করাকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তবে তিনি স্পষ্টভাবে

জানিয়ে দিয়েছেন যে, ডেনমার্কের অখণ্ডতা রক্ষা এবং গ্রিনল্যান্ডের জনগণের

আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য। সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো

আপস করা হবে না বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

ট্রাম্পের এই নমনীয় অবস্থানে বিশ্ববাজারে স্বস্তি ফিরে এসেছে। শুল্ক আরোপের

সিদ্ধান্ত স্থগিতের ঘোষণার পরপরই মার্কিন পুঁজিবাজারে বড় ধরনের উত্থান লক্ষ করা

গেছে এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরেছে। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা এখনই

পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছেন না। তাদের মতে, হোয়াইট হাউস থেকে চূড়ান্ত কোনো চুক্তির

বিস্তারিত প্রকাশ না করা পর্যন্ত এই দীর্ঘমেয়াদী এবং জটিল সংকটের অবসান হয়েছে কি

না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *