123 Main Street, New York, NY 10001

ভারতের গ্রেটার নয়ডায় চলমান জাতীয় বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপে দেখা গেছে এক অপ্রত্যাশিত বা কলঙ্কজনক অব্যবস্থাপনা। প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব বা ফাইনালের ঠিক আগে রাতে তীব্র ঠাণ্ডার মধ্যে বিভিন্ন রাজ্যের খেলোয়াড়, কোচ এবং সাপোর্ট স্টাফদের হোটেল থেকে উচ্ছেদ করার ঘটনা বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। গতকাল শুক্রবার দিনের খেলা শেষে যখন দেহে ক্লান্তি নিয়ে খেলোয়াড়রা তাঁদের বরাদ্দকৃত হোটেল বা লজে ফিরেছিলেন, তখন তারা আবিষ্কার করেন যে তাদের ব্যাগপত্র ঘরের বাইরে ফেলে রাখা হয়েছে। এই ঘটনা ঘটেছে গ্রেটার নয়ডার গৌতমবুদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতার সময়, যখন সেই অঞ্চলের তাপমাত্রা ছিল ৬ থেকে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই হাড়কাঁপানো শীতে দীর্ঘ সময় খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাতে হয়েছে জাতীয় স্তরের অ্যাথলেটদের।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তেলেঙ্গানা, কেরালা, ঝাড়খণ্ড, মধ্যপ্রদেশ, কর্ণাটক, গোয়া, পাঞ্জাব, তামিলনাড়ু এবং ছত্তিশগড় রাজ্যের দলগুলো। নয়ডার বিভিন্ন হোটেল ও লজে থাকা ব্যবস্থা করা হলেও, বুকিংয়ের মেয়াদ শেষ হওয়ার অজুহাতে কর্তৃপক্ষ হোটেলগুলো থেকে খেলোয়াড় ও কোচদের দ্রুত বের করে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। অনেক খেলোয়াড় ও কোচ অভিযোগ করেন যে, রাতভর রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে, যা একেবারেই মানসিক ও শারীরিকভাবে মারাত্মক অপমান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার ছবি ও খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। এরপর ভারতীয় বক্সিং ফেডারেশন এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে এই ঘটনার দায় এড়ানোর চেষ্টা করে বলে জানানো হয়েছে, তারা সমস্যা বুঝতে পেরেই বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং খেলোয়াড়দের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলে থাকার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তবে এই ব্যাখ্যায় শান্তি পাচ্ছেন না ক্ষতিগ্রস্ত কোচ ও খেলোয়াড়রা। এক কোচ বলেন, শুক্রবার দিনভর প্রায় ৪০টি সেমিফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে, ফলে শারীরিকভাবে তারা বেশ ক্লান্ত। আজ শনিবার তাদের গুরুত্বপূর্ণ ফাইনাল ম্যাচের জন্য প্রস্তুত হতে হয়, অথচ বিশ্রাম ও পুষ্টিকর খাবার ছাড়াই তাঁদের অতীতে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। ফেডারেশনের কর্মকর্তারা বলেন, এই সংকটের মূল কারণ ছিল প্রতিযোগিতার সময়সূচির পরিবর্তন। প্রথমে এই চ্যাম্পিয়নশিপের তারিখ ছিল ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৭ জানুয়ারি, যার জন্য হোটেল বুকিংও করা হয়েছিল। কিন্তু পরে তারিখ পরিবর্তন করে ৪ থেকে ১০ জানুয়ারি করা হলে, বুকিংয়ের সময় সামঞ্জস্য না থাকায় এই বিশাল বিপর্যয় ঘটে। এই অখাদ্য আচরণ ভারতের ক্রীড়া মহলে ব্যাপক সমালোচনা and নিন্দার ঝড় তুলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *